মণিরামপুরে বাল্যবিয়ে প্রস্তুতির তথ্য দিয়ে হুমকিরমুখে কয়েক সহপাঠি ॥ সন্ত্রাসী দিয়ে চাওয়া হচ্ছে ক্ষতিপূরণের টাকা

ballobie
মোতাহার হোসেন, মণিরামপুর॥ যশোরের পল্লীতে একটি বাল্য বিয়ের তথ্য দিয়ে সন্ত্রাসীদের রোষানলে পড়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কয়েক সহপাঠি কিশোর। উপজেলার ঢাকুরিয়া এলাকার তারুয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এখন বিয়ে বন্ধের ক্ষতি পূরণ দেখিয়ে তথ্যদাতাদের পরিবারের কাছে লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।
জানাযায়, গত ১০ মার্চ উপজেলার ঢাকুরিয়া তারুয়াপাড়া গ্রামের চন্দন দাসের মেয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী নুপুর দাসের বিয়ে ঠিক হয়। সে পার্শ্ববর্তী সুবলকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। বিয়ের কথা জানতে পেরে সহপাঠীরা নুপুর দাসের বাড়িতে যায়। এসময় নুপুর দাস কান্নাকাটি করে সহপাঠীদের বলে তার স্কুলে যাওয়া হবে না । ইচ্ছে ছিল লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাড়াতে। কিন্তু চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে পড়া লেখার পাঠ। বাল্য বিয়ে বন্ধে সহপাঠীরা খবর দেয় প্লান বাংলাদেশের খুলনা বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর মান্নান শাহরিয়ার কাছে। এসময় তিনি তথ্যদাতাদেরকে নুপুর দাসের বাড়িতে গিয়ে কখন বিয়ে হচ্ছে তার খোজ খবর নিয়ে জানাতে বলেন। সে মোতাবেক সহপাঠী শ্যামল, আশরাফুল, তৌহিদ, শহিদসহ এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে নুপুর দাসের বাড়িতে যায়। এ সময় নুপুর দাসের পরিবারের লোকজন তাদেরকে মেয়ে অপহরণ হিসেবে প্রচার করে ধাওয়া করে বেধম মারপিট করে। এরমধ্যে খবরটি চলে যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসানের কাছে। প্রশাসনিক তৎপরতায় ১০ তারিখে বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর নুপুর দাসের পরিবারের লোকজন এলাকার সন্ত্রাসীদের দিয়ে তথ্যদাতাদের শায়েস্তার করার জন্য ঠিক করে। এক পর্যায়ে এলাকার চি‎িহ্নত সন্ত্রাসী দ্বীপসহ কয়েকজন শ্যামল ও ফার্ণিচার মিস্ত্রি হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে বিয়ে বন্ধের কারণে লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তাদের হাজির করার হুমকি দেয়। এরমধ্যে প্রাণ ভয়ে শ্যামল ও হৃদয় গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। পিতৃহীন অসহায় পরিবারের শ্যামল মামা বাড়িতে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে আসছিল। পড়া লেখার ফাঁকে ফাঁকে শ্যামল ভ্যান চালাত। আর হৃদয় হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। সে জীবিকার তাগিদে ফার্ণিচারের মিস্ত্রির কাজ করে আসছিল। জানতে চাইলে প্লান বাংলাদেশের খুলনা বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর মান্নান শাহারিয়ার জানান, বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে ওই তথ্যদাতাদেরকে কবে কোথায় এবং কখন বিয়ে হচ্ছে তার সঠিক খবর জানানোর জন্য তাদেরকে বলা হয়। কিন্তু এখন ওই ছেলেগুলো চরম বিপদের মধ্যে পড়েছে। তিনি আরো জানান, চলতি মাসের ২৯ মার্চ আবারও ওই মেয়ের বিয়ের দিন ধার্য করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। জানতে চাইলে উপজেলা মহিলা কর্মকর্তা উম্মে সালমা বলেন, বাল্য বিয়ের কথা জানতে পেরে তিনিসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার উদ্যোগে বন্ধ করা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এখন প্রশ্ন হলো খবরদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উদ্যোগী না হলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তেমনি ভবিষ্যতে বাল্য বিয়ে ঠেকাতেও মানুষ আগ্রহ হারাবেন। সচেতন মহল এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেয়ার