নিজামীর চূড়ান্ত রায় প্রকাশ

nizami

সমাজের কথা ডেস্ক॥ যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদন্ড বহালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছে আপিল বিভাগ, যার মধ্যে দিয়ে দন্ডকার্যকরের প্রক্রিয়া শুরুর পথ তৈরি হল।
আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তী মঙ্গলবার বলেন, “বিকালে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। সন্ধ্যায় তা ট্রাইবুন্যালে পাঠানো হয়েছে।”
সুপ্রিম কোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসান ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মো. শহীদুল আলম ঝিনুকের হাতে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পৌঁছে দেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করার পর রায়ের প্রত্যায়িত কপি পাঠানো হবে কারা কর্তৃপক্ষ ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। নিয়ম অনুসারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও অবহিত করা হবে।
আপিল বিভাগের সর্বোচ্চ সাজার আদেশ হাতে পেয়ে বিচারিক আদালত (ট্রাইব্যুনাল) কারাগারে মৃত্যু পরোয়ানা পাঠাবে। ওই মৃত্যু পরোয়ানার ভিত্তিতেই সরকারের তত্ত্বাবধানে কারা কর্তৃপক্ষ সাজা কার্যকরের প্রস্তুতি নেবে।
অবশ্য দন্ড কার্যকরের আগে আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার সুযোগ পাবেন একাত্তরের বদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী। রিভিউ না টিকলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষাও তিনি চাইতে পারবেন।
দুই আর্জিই নাকচ হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে কারা কর্তৃপক্ষ দন্ড কার্যকরের ব্যবস্থা নেবে। তার আগে আসামির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন পরিবারের সদস্যরা।
একাত্তরে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়নে ভূমিকাসহ তিন অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদন্ড বহালের রায় আসে সর্বোচ্চ আদালত থেকে।
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ গত ৬ জানুয়ারি এই রায়ের সংক্ষিপ্তসার জানিয়ে দেয়। ১৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় লিখেছেন এ বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।

বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
নিয়ম অনুযায়ী, আসামিপক্ষ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবে। রিভিউ নিষ্পত্তি হওয়ার আগে দন্ড কার্যকর করা যাবে না।
বুধবার থেকে সেই দিন গণনা শুরু হবে জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, “এ সময়ের মধ্যে কেউ রিভিউ আবেদন না করলে আইন অনুসারে দন্ড কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু করবে সরকার।”
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী এসএম শাহজাহান বলেন, “রায়ের অনুলিপি হাতে পেলে ১৫ দিনের মধ্যে আমরা রিভিউয়ের আবেদন করব।”
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দন্ডিতদের মধ্যে এ নিয়ে মোট ছয়জনের আপিলের নিষ্পত্তি শেষে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়ে রিভিউয়ের পর্যায়ে এলো।
চূড়ান্ত রায় : বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাবনায় হত্যা, ধর্ষণ এবং বুদ্ধিজীবী গণহত্যার দায়ে২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছর জানুয়ারিতে আপিল আংশিক মঞ্জুর করে সেই ফাঁসির রায়ই বহাল রাখে সর্বোচ্চ আদালত।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রসিকিউশনের আনা ১৬ অভিযোগের মধ্যে আটটিকে নিজামীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
এর মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর ঘটনায় নিজামীর ফাঁসির রায় আসে। আর অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় ১, ৩, ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে জামায়াত আমিরকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদন্ড।
আপিলের রায়ে ২, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে প্রায় পাঁচশ মানুষকে হত্যা ও ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ এবং পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী গণহত্যার দায়ে নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল রাখে সর্বোচ্চ আদালত। আর যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সাজা বহাল রাখা হয় ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে। ১, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ থেকে নিজামীকে খালাস দেয় আপিল বিভাগ।

শেয়ার