শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় কবিতার যোদ্ধাকে শেষ বিদায়

Rafiq Azad
সমাজের কথা ডেস্ক॥ রণাঙ্গনের যোদ্ধা, ষাটের দশকের ‘উজ্জ্বলতম কবি’ রফিক আজাদকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানালো বাংলাদেশ। একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারজয়ী এই কবির মরদেহ সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হলে পুলিশের একটি চৌকস দল এই মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেয়।
সরকারের মন্ত্রী, লেখক-শিল্পী-বুদ্ধিজীবী আর নানা ভক্ত পাঠকের শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় কবির কফিন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “কবি রফিক আজাদ একজন সংগ্রামী মানুষ ছিলেন। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, দেশ রক্ষায় সংগ্রাম করেছেন। সারা জীবন তিনি মানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে গেছেন।”
দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) মারা যান রফিক আজাদ, তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
কবিপতœী রাজধানীর তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ দিলারা হাফিজ সেদিন বলেছিলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার স্বামীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে, শুধু এটাই তার চাওয়া।
বিকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয় ‘আজীবন সংগ্রামী’ এই কবিকে।
১৯৪১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার গুণী গ্রামে রফিক আজাদের জন্ম। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে শুরু করেন শিক্ষকতা।
এরপর বাংলা একাডেমিতে যোগ দিয়ে একাডেমি প্রকাশিত পত্রিকা ‘উত্তরাধিকার’র নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে ১৯৭২ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সাপ্তাহিক রোববার সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন তিনি। কাজ করেছেন বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন, উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে।

রফিক আজাদের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে অসম্ভবের পায়ে (১৯৭৩); সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে (১৯৭৪); নির্বাচিত কবিতা (১৯৭৫); চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া (১৯৭৭) উল্লেখযোগ্য।
ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৩ সালে তাকে একুশে পদক দেওয়া হয়। ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের পর সাহিত্য কর্মের জন্য আরও অনেক স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।
একাত্তরে টাঙ্গাইলে আবদুল কাদের সিদ্দিকী নেতৃত্বাধীন কাদেরিয়া বাহিনীর হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এই কবি।

শেয়ার