মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন আরও ২৬ বীরাঙ্গনা ॥ তালিকায় শার্শার মোমেনা ও রহিমা খাতুন

bironggona
সমাজের কথা ডেস্ক॥ একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী এবং রাজাকারদের হাতে নির্যাতিত আরও ২৬ বীরাঙ্গনার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।
গত বছরের ১২ অক্টোবর ৪১ জন বীরাঙ্গনার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে সরকার।
সোমবার গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে দুই ধাপে মোট ৬৭ বীরাঙ্গনার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো। এবারে তালিকায় রয়েছে যশোরের দু’জন বীরঙ্গনার নাম। তারা হলেন, যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামের মোমেনা খাতুন ও পাঁচকায়রা গ্রামের রহিমা খাতুন।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছিলেন, বীরাঙ্গনারা মুক্তিযোদ্ধাদের মত সব ধরনের সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
অন্য বীরাঙ্গনাদেরও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আনতে কাজ করছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয় বর্তমানে ৪০০ থেকে ৫০০ জনের একটি তালিকা নিয়ে কাজ করছে।
১৯৭১ সালে ডিসেম্বরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত নারীদের ‘বীরাঙ্গনা’ স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সম্মান জানান।
তার নির্দেশনায় বীরাঙ্গনাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়, যা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের আগ পর্যন্ত চলছিল।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সামরিক শাসকদের মাধ্যমে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তানি জান্তার সহযোগীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরইমধ্যে এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনাও আসে।

শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের ৪৩ বছর পর গতবছর ১০ অক্টোবর বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। গত বছরের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে ওই প্রস্তাব পাস হয়।

শেয়ার