উটবোঝাই স্বর্ণের খোঁজে!

gols
সমাজের কথা ডেস্ক॥ শুধু রূপকথার গল্পেই নয়, গুপ্তধনের খোঁজে বাস্তব জীবনেও পাগলপারা মানুষের অভাব নেই পৃথিবীতে। সম্প্রতি তুরস্কে এমনই গুপ্তধনের খোঁজে নেমেছে একদল মানুষ।
পূর্বের নানা চেষ্টার ব্যর্থতা জানা সত্ত্বেও নতুন করে বুকভরা আশা নিয়ে জল-স্থল চষে বেড়াচ্ছেন পেশাদার তুর্কি ডুবুরি মুহাম্মদ, হালিম মাভিস ও তার বন্ধুরা। যাদের লক্ষ্য ৪০ উটবোঝাই স্বর্ণ!
ঘটনাটি তুরস্কের বালিকএসির জেলার বিগাদিচ উপজেলার এক গ্রামের। লোকমুখে প্রচলিত ইতিহাসে এলাকাবাসীর বিশ্বাস, স্থানীয় মিঠা পানির হ্রদ ঘেঁষে কোনো এক জায়গায় মাটির নিচেই রয়েছে ৪০ উটবোঝাই স্বর্ণের মজুদ।
বিশ্বাসীদের মতে, বহুকাল আগে কোন ধনাঢ্য জমিদার কিংবা রাজ্যহারা রাজার পরিত্যক্ত সম্পত্তি লুকিয়ে রাখা হয়েছিলো একটি গুহায়। কালের গহ্বরে সেই স্বর্ণ আজ গুপ্তধন।
এই গুপ্তধনের খোঁজেই ২০১১ সালে একদল মানুষ দিন-রাত কাটিয়েছিল এখানে। তারও আগে বহুবার ছোট-বড় অভিযান চালিয়েছে গ্রামবাসী। এতসব ব্যর্থতার পরও নতুন করে দুই ডুবুরি ও তার বন্ধুদের দলের গুপ্তধন খোঁজার অভিযান নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এলাকাটিতে।
এবার হ্রদের পানির নিচে চলছে অভিযান। ডুবুরি হালিম মাভিসের দাবি, সম্প্রতি পানির নিচে একটি পুরোনো দরজার ধংসাবশেষ দেখতে পেয়েছেন তিনি। সে সূত্র ধরেই আনুষ্ঠানিক গুপ্তধন খোঁজার অভিযানে নেমেছে দলটি।

স্থানীয় প্রশাসনসহ ঊর্ধতন যাদুঘর ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে বৈধভাবেই খনন আর খোঁজখুঁজির কাজ করছে হালিমের দল। ব্যবহার হচ্ছে ভারী যন্ত্রপাতিও। উৎসুক গ্রামবাসী তাই ভিড় জমিয়ে কাজের অগ্রগতি দেখছেন নিয়মিত। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশের বিশেষ বাহিনী নিয়োজিত করা হয়েছে এলাকাটিতে।
ডুবুরি মুহাম্মদের মতে, কমপক্ষে ৬০-৭০ টন স্বর্ণের আশা করছে তার দল। সত্যি সত্যি গুপ্তধন পেলে গ্রামবাসীকেও নিরাশ করবে না বলে ইতোমধ্যে কথা দিয়েছে দলপতি।
প্রাপ্ত সম্পত্তির ভাগ সরকারকে দেয়ার পাশাপাশি গ্রামের উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগের পরিকল্পনা আছে তাদের। এলাকাবাসীও অপেক্ষায় রয়েছেন, কখন পাবেন তারা এত্ত এত্ত সোনা!

শেয়ার