আঙ্কারায় বোমার পর পিকেকে’র ওপর তুর্কি অভিযান শুরু

anker

সমাজের কথা ডেস্ক॥ রাজধানী আঙ্কারায় গাড়িবোমা বিস্ফোরণের পর দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও ইরাকে অবস্থিত কুর্দি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক সরকার। ইরাকের উত্তরাঞ্চলের কুর্দি শিবিরগুলোতে চলছে জঙ্গি বিমান হামলা।
রোববার আঙ্কারায় আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মাত্র কয়েকশ’ মিটার দূরে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৩৭ জন নিহত এবং ১২৫ জন আহত হয়।
তুরস্কের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দুতে গত এক মাসের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার একই ধরনের হামলা হল। এখন পর্যন্ত এ হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। তবে সরকার কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) যোদ্ধাদের সন্দেহ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এফকান আলা বলেন, সোমবার তদন্ত শেষ হচ্ছে। কারা এর পেছনে জড়িত তাদের নাম জানানো হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীদের মধ্যে একজন কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) নারী সদস্য। তিনি২০১৩ সালে ওই দলে যোগ দেন।
ওই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়েপ এরদোয়ান ‘সন্ত্রাসীদের মূল উৎপাটনের’ প্রতিজ্ঞা করার পর এ অভিযান শুরু হল।
এরই মধ্যে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের তিনটি শহরে কারফিউ জরি করা হয়েছে।
আনাদলু নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি অধ্যুষিত ইউকসেকোভা ও নুসাইবিন শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। কুর্দি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানও পরিচালিত হয়েছে।
এছাড়া, সির্নাক শহরে স্থানীয় সময় ২৩:০০ মিনিটে (জিএমটি ২১:০০) কারফিউ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ওদিকে, সোমবার সকালে উত্তর ইরাকে পিকেকে-র ঘাঁটিতে তুর্কি যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে।তুরস্কের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ১১টি যুদ্ধ বিমান ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে কান্দিল ও গারা সেক্টরের অস্ত্রভান্ডার এবং শেল্টারও ছিল।
পিকেকে’র পক্ষ থেকেও ওই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে পারছে না বলেই এখন বেসামরিক জনগণকে নিশানা করছে, বলেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।
সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে। গত জানুয়ারিতেই ইস্তাম্বুলে এক জঙ্গি হামলায় অন্তত দশজন নিহত হয়, যাদের অধিকাংশই জার্মান পর্যটক।
এর আগে গতবছর অক্টোবরে আঙ্কারায় কুর্দিদের শান্তি সমাবেশে জোড়া আত্মঘাতী হামলায় শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়।
২০১৫ সালের জুলাইয়ে আক্রান্ত হয় সিরিয়া সীমান্তের কাছে কুর্দি অধ্যুষিত শহর সুরুস। ওই আত্মঘাতী হামলায় ৩০ জন নিহত হয়।

শেয়ার