স্বর্ণ জয়ী শিলার বহিস্কারাদেশের কপি গায়েব॥ জলকন্যার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার নিয়ে অনিশ্চয়তা

shila
আরমান সজল॥
মাহাফুজা আক্তার শিলা। ভারতের গোহায় অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে সোনা জিতে রাতারাতি তারকা বনে গেছেন। তবে তিনি নিজ জেলা ক্রীড়া সংস্থায় এখনো অবাঞ্ছিত। প্রায় ১৪ বছর আগে সাঁতার ফেডারেশনে সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্বের জেরে তাকেসহ ৯ জনকে বহিস্কার করা হয়। তখনকার ১০ বছরের শিলা আজ জাতীয় বীর। তবে এখনো সেই ‘কলঙ্কতিলক’ তার ঘোচেনি। আদৌও ঘুচবে কিনা তাও স্পষ্ট নয়। কারণ এখনো জেলা ক্রীড়াঙ্গনে সেই কলঙ্কিত অধ্যায় নিয়ে চলছে লুকোচুরি।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৩ সালে অভয়নগর উপজেলার হয়ে যশোর শিশু একাডেমি থেকে সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে ১০ বছর বয়সী শিলা। প্রতিযোগিতায় তিনি সাফল্য অর্জন করেন। প্রতিভা দেখে সাঁতারের কোচ আব্দুল মান্নান শিলাকে নিজের কাছে রেখে প্রশিক্ষণ দেন। তবে সব ঠিকঠাক থাকলেও সে সময়ের ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে গড়ে ওঠা ‘কালো রাজনীতি’র শিকার হয় ছোট শিলাসহ ৯ সাঁতারু। সেদিন ওই ৯ সাঁতারুকে কোন সভা ছাড়ায় বহিস্কৃত করা হয়। তবে বহিষ্কারাদেশের সেই চিঠির কোন রেকর্ড জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিস কক্ষে নেই। শুধু তাই নয়, সংস্থার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবির বলছেন, শিলার বহিস্কারাদেশ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। সংগতকারণে শিলার সোনা জয়ের পর জেলার ক্রীড়াঙ্গনে ঘুরে ফিরে একটি কথায় আলোচনা হচ্ছে তাদের বহিস্কারাদেশ কি প্রত্যাহার হবে।
তৎকালীন সাঁতার ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন আব্দুল মান্নান। তিনি দৈনিক সমাজের কথাকে বলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মারুফুল ইসলাম শিলাসহ ৯ সাঁতারুকে বহিষ্কার করেছিলেন। ওই ৯ সাঁতারু ডলফিন ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করার কারণে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে এখনো পর্যন্ত তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবির জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন খবর শুনেননি। তবে শিলার সোনা জয়ের পর বিষয়টি শুনেছেন। কিন্তু শিলার বষ্কিকারাদেশের কোন চিঠি জেডিএসের অফিস কক্ষে নেই। তাই বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের ব্যাপারে এখনই সিদ্ধান্ত নেওংয়া যাচ্ছে না। যদি বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে তাহলে কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় তারা এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন।

শেয়ার