বসুন্দিয়া এলাকায় অপরাধ বাড়ছেই ॥ এবার একরাতে ছয় গরু চুরি, জনমনে উদ্বেগ

udbek prokashudbek
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া এলাকায় অপরাধ কর্মকা- ঘটেই চলেছে। সর্বশেষ শনিবার গভীর রাতে কেফায়েতনগর ছয়টি গরু চুরি হয়েছে। এরআগে দোকানে চুরি হয়েছে। আর জামায়াত শিবির অধ্যুষিত এই এলাকায় দুদিন আগে শিবির গোপন ঘর নির্মাণ করছিলো বলে অভিযোগ উঠেছে। বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সোহরাব হোসেন অবশ্য বলছেন গরু চুরির ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি দেখা হচ্ছে। আর যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন বলেন, বিষয়টি দেখার জন্য বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জকে বলা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ বা মামলা হয়নি বলেও তিনি জানান।
কেফায়েতনগরের আনছার আলী মোল্যা জানান, শনিবার গভীর রাতে গ্রামের মোজাফ্ফর হোসেন মোড়লের গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে দেড় লাখ টাকা মূল্যের তিনিটি গরু চুরি হয়ে যায়। একই রাতে পাশেই সাহাবুদ্দিন মোল্যার ৮০ হাজার মূল্যের দুইটি গরু চুরি হয়। এরপর হারান বিশ্বাসের মেয়ে মর্জিনা খাতুনের আরো একটি গরু চুরি হয়। যার মূল্য ৬০ হাজার টাকা। অজ্ঞাতনামা চোরেরা একে একে তিন বাড়ি থেকে ছয়টি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। গত এক মাস আগে এলাকার গাইগদাছি গ্রামের জয়নাল মোল্যার একটি গাভী চুরি হয়ে যায়। প্রায় দুই মাস আগে একই গ্রামের অহেদ মোড়লের আরো তিনটি গরু চুরি হয়ে যায়। এছাড়াও পাশেই বনগ্রামের আরো কয়েকজনের কয়েকটি গরু চুরি হয়েছে। এভাবে একের পর এক গরুসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি হচ্ছে।
তাছাড়া গত বুধবার রাতে বসুন্দিয়া মোড় বাজারের দুইটি দোকানে চুরি হয়েছে। চোরেরা ওই দোকান থেকে টাকাসহ প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। পুলিশ ওই দোকান চুরির ব্যাপারেও কাউকে আটক বা কিছু উদ্ধার করতে পারেনি। বসুন্দিয়া এলাকায় বর্তমানে এ ধরনের অপরাধকর্মকা- চলছেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, বর্তমান ক্যাম্প ইনচার্জ যোগদানের পর থেকে এলাকায় কারো জান ও মালের নিরাপত্তা নেই। তিনি অপরাধীদের আড়াল করে ‘নিরাপরাধ’ মানুষের ধরে বিভিন্ন পেন্ডিং মামলায় চালান দিয়েচ্ছেন। গত বুধবার হিরো নামে এক ব্যবসায়ীকে একটি পেন্ডিং চুরি মামলায় চালান দিয়েছে। হিরোর ‘অপরাধ’ ছিল তার মোটরসাইকেল চালনায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। এ কারণে বাড়ি থেকে তাকে ধরে কয়েক দিন আগে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে ওই দারোগা। না দেয়ায় তাকে একটি পেন্ডিং চুরি মামলায় দেয়া হয়েছে। এভাবে অনেককে ধরে নিয়ে ৫৪ ও ৩৪ ধারায় চালান দিয়েছেন। ফলে ওই দারোগার কাছ থেকে নিরাপরাধ মানুষ ও রেহাই পাচ্ছে না।

শেয়ার