যুদ্ধাপরাধে যাবজ্জীবন দিলেও ভন্ডামি হয়: মন্ত্রী মোজাম্মেল

mojammel
সমাজের কথা ডেস্ক॥ যুদ্ধাপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদন্ডই আসামির একমাত্র সাজা হওয়া উচিত বলে মনে করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে সম্পদ বাজেয়াপ্ত, সন্তানদের ভোটাধিকার হরণ ও সরকারি চাকরিতে অযোগ্য ঘোষণারও দাবি জানিয়েছেন এই মুক্তিযোদ্ধা।
শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি বারবার বলে আসছি- যুদ্ধাপরাধীদের ন্যূনতম শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হোক। তাদেরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া ভণ্ডামি। তাদেরকে হয় ফাঁসি অথবা নির্দোষ প্রমাণ হলে খালাস দেওয়া হোক।”

সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধের একটি মামলা নিয়ে বক্তব্যের জের ধরে দুই মন্ত্রীকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত, যাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীও রয়েছেন।

‘অনুভব বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ এর বার্ষিক সাধারণ সভায় দেওয়া বক্তব্যে এ বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন মোজাম্মেল।

জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে কথা বলার জন্য মাঝে মধ্যে তাকে ‘খেসারত দিতে হচ্ছে’ মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “কয়েকদিন পর এ নিয়ে আদালতে হাজির হতে হবে।

“ওরা মোবাইলে এসএমএস পাঠায়, চিঠি পাঠায়, কাফনের কাপড় পাঠায়। কিন্তু আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।

“জামায়াত দলীয় সিদ্ধান্তে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। তাই দল হিসাবে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি জানাচ্ছি। তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হোক। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হোক। তাদের সন্তানরা যাতে কোনো সরকারি চাকরি না পায়। এই অধিকারগুলো কেড়ে নেওয়া হোক।”

দেশ ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ওরা সুযোগ পেলেই সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ায়। শুধু যে হিন্দুদের হত্যা করে তা নয়, আমাদের মুসলমানদেরও হত্যা করছে, মন্দিরে হামলা চালাচ্ছে, মসজিদে হামলা করছে, শিয়া-সুন্নি বিবাদ সৃষ্টি করছে।

“এসব অপশক্তির ভয়ে ভীত হলে চলবে না। এই অপশক্তির মূলোৎপাটন করেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।”

অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছিল অনুভব বহুমুখী সমবায় সমিতি।

সমিতির সভাপতি সাবেক সচিব হিরালাল বালা বলেন, “হিন্দু মুসলিম যাতে মিলে মিশে বসবাস করা যায় সেই লক্ষ্যে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্ত স্বাধীনতার পর হিন্দুদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। শতকরা ২৮ ভাগ থেকে নেমে ৮ ভাগে এসেছে।”

সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিতেন্দ্র লাল ভৌমিক, সহ-সভাপতি কৈলাশ চন্দ্র বাড়ৈ, সাধারণ সম্পাদক মানস কুমার মিত্র, যুগ্ম সম্পাদক ফণি ভূষণ রায়, কোষাধ্যক্ষ ভোলানাথ পোদ্দার প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে ১৯৯৭ সালে ঢাবির গিয়াসুদ্দিন আবাসিক এলাকায় এই সমিতি গঠন করা হয়।

শেয়ার