যশোরে নাশকতার উদ্দেশেই শিবিরের গুহা!

sibir
সমাজের কথা ডেস্ক॥ যশোরে বড় ধরনের নাশকতা পরিকল্পনার উদ্দেশেই শিবির গুহা তৈরি করেছে বলে দাবি পুলিশের।

সদর উপজেলার বসুন্দিয়ার গাইদগাছি আঞ্চলিক শিবির কার্যালয় পার্শ্ববর্তী মেহগনি বাগানের মধ্যে ইসলামী ছাত্র শিবিরের এই কর্মকাণ্ডকে ভালো চোখে দেখছেন না স্থানীয়রাও। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) শিবিরের এই গুহার সন্ধানের খবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা এলাকায় কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই শিবির কর্মীরা এ গুহা তৈরি করে। তবে পুলিশের গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে শিবিরের সব পরিকল্পনা ভণ্ডুল করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ওই গুহা থেকে দুই শিবির কর্মীসহ ১২ জনকে আটক করা হয়। এ সময় দশটি বোমা, বোমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত দুই কেজি জালের কাঠি, দুই কেজি কাচের টুকরো, আধা কেজি পটাশ, সাইকেলের বল ২৫০ গ্রাম, বারুদ ২০০ গ্রাম, ১৫টি লাঠি, জামায়াতের গঠনতন্ত্র একটি এবং একটি প্রচার বই উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের কাছে তথ্য আছে, ৩২ ফুট লম্বা, ১২ ফুট চওড়া এবং আট ফুট গভীর ওই গুহা তৈরির জমিটি স্থানীয় রাশেদুল ইসলাম নামে এক শিবির নেতা ইসলামী ছাত্র শিবিরকে দান করেছেন।

এছাড়াও জামায়াত সমর্থীত একজন ইউপি চেয়ারম্যান ও যশোরাঞ্চলের বেশকিছু ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের অর্থে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল শিবির। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) ওই গুহায় অভিযানকালে আটক শিবির নেতা বিল্লাল ও নুরুজ্জামানের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরিকল্পনাকারী এবং অর্থদাতাদের আটকের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী বাংলানিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিবিরের ওই আঞ্চলিক কার্যালয়ে জামায়াত-শিবির সংগঠিত হয়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী ২০দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধকালে বসুন্দিয়া এলাকায় নারকীয় তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবির। হরতাল চলাকালে পুলিশের গাড়ির প্রবেশ বন্ধ করতে যশোর-খুলনা মহাসড়কের দুই ধারের গাছ কেটে সাবাড় করেছে তারা।

এছাড়াও এলাকায় র‌্যাব-পুলিশের উপর কয়েক দফায় হামলা করেছে ওই এলাকার জামায়াত-শিবির কর্মী-সমর্থকরা। তবে দেশের রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিকাংশ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী আড়ালে থেকে নাশকতা পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে যশোর জেলা জামায়াত ও শিবিরের একাধিক নেতা বাংলানিউজের কাছে দাবি করে বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে প্রতিপক্ষরা পুলিশকে ‘গুহা’ নির্মাণের ভুয়া তথ্য দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে জনসমক্ষে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছিল। তবে পুলিশের দাবি করা মাটির নিচের গুহাকে যানবাহন রাখার ‘বেজমেন্ট’ বলে দাবি শিবিরের।

তবে বাগানের ভেতরে যানবাহন পার্কিংয়ের বেজমেন্ট নির্মাণের কথাটি মানতে নারাজ পুলিশ ও এলাকাবাসী।

স্থানীয় এলাকাবাসী আরো জানান, নির্মাণকাজের শুরুতে নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের কথা প্রচার করা হলেও ছাদ ঢালাইয়ের সময়ে ফ্যান ঝুলানোর হুক তৈরি করায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়। এরপর তারা পুলিশের খবর দেয়।

গুহা নির্মাণের জমিদাতা শিবির নেতা রাশেদুল ইসলামের মা বাংলানিউজকে বলেন, তার ছেলে রাশেদুল আল্লাহর নামে শিবিরকে জমি দান করেছে, সেখানে কি নির্মাণ হচ্ছিল সেটা তিনি জানেন না। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই না বুঝে গুহা বলাকে সমর্থন করেন না তিনি।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, শিবিরের গুহা তৈরির ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই জানিয়ে জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আটক দুই শিবিরকর্মীর প্রাথমিক স্বীকারোক্তি ও পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যকে গুরুত্বদিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অতিদ্রুত এ ঘটনায় জড়িতরা আটক হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শেয়ার