যশোরে মাটির নিচে শিবিরের গোপন আস্তানা নির্মাণ চেষ্টা ॥ ১২ জন আটক, ১০টি বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার

suronggo
প্রতীক চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি॥ যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়ায় ছাত্র শিবিরের আঞ্চলিক অফিসের মধ্যে মাটির নিচে গোপন আস্তানা নির্মাণকালে ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় সেখান থেকে ১০টি বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও একটি রামদা উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সোহরাব হোসেন জানান, এলাকার গাইদগাছি গ্রামের (বসুন্দিয়া মোড়স্থ) আলফা টোব্যাকো সিগারেট কারখানার পিছনে বুড়ি ভৈরব নদের পাড়ে শওকত আলী মীর কয়েক বছর আগে ইসলামী ছাত্র শিবিরের অফিস নির্মাণের জন্য জমি দান করেন। ওই জমিতে দুই বছর পূর্ব থেকে অফিসের ঘর নির্মাণের কাজ চলছিল। কিন্তু অফিস ঘরের মধ্য দিয়ে বুড়ি ভৈরব নদী পর্যন্ত ৩২ ফুট লম্বা ও ১২ ফুট চওড়া এবং ৮ ফুট গভীর একটি আস্তানা নির্মাণ কাজও চলছিল।
আটককৃতরা হলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দরমুজখালি গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে বিল্লাল হোসেন (১৮), খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাঠের গা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে নূরুজ্জামান (২৬), যশোরের অভয়নগর উপজেলার ধলিরগাতি গ্রামের ইজ্জত আলী মোল্লার দুই ছেলে শাহিন হোসেন (২২) ও ফারুক হোসেন (২৪), জালাল ম-লের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৪), মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে আব্দুল খালেক (২৫), আব্দুল জলিলের ছেলে ইকরাম হোসেন (২২), আব্দুস সাত্তারের ছেলে বিপ্লব হোসেন (২৫), যশোর সদরের বসুন্দিয়া খোলাডাঙ্গা গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (২৭), কেফায়েতনগর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে আল আমিন (২৩), খুলনার কয়রা উপজেলার গোয়ালখালি এলাকার আমজাদ গাজীর ছেলে বাদশাহ (২৪) এবং যশোর সদররের গাইদগাছি এলাকার মুজিবর রহমানের ছেলে টিটো (২৬)।
পুলিশ সূত্র মতে, এদিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সেখান থেকে শিবিরের ক্যাডারসহ ১২জনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয় ১০টি বোমা, ২ কেজি জালের কাঠি, ২ কেজি কাঁচের টুকরো, আধা কেজি পটাশ, সাইকেলের বল ২৫০ গ্রাম, বারুদ ২০০ গ্রাম, ১৫টি লাঠি, একটি জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র এবং একটি প্রচার বই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাইদগাছি (বসুন্দিয়া মোড়স্থ) মৃত হাফেজ আবু হানিফের ছেলে রাশেদুল ইসলাম ছাত্র শিবিরের একজন ক্যাডার। তার বিরুদ্ধে প্রায় ডজন খানেক নাশকতা মামলা রয়েছে। তারই তত্ত্বাবধানে অফিস ঘরের মধ্যে গোপন আস্তানা নির্মাণ করা হচ্ছিল। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন জানান, ‘প্রাথমিকভাবে এটিকে বাংকার’ হিসেবেই ধরে নেয়া হচ্ছে। এখান থেকে জামায়াত-শিবিরের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে থানায় আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এসকেন নামে রাজমিস্ত্রি সেখানে ৭/৮ জন শ্রমিক নিয়ে কাজ করছিল।
এদিকে, বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন, শিবির অফিস নির্মাণের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা হাজী আবু বক্কার খান অর্থ যোগান দিয়েছেন বলে আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

শেয়ার