শৈলকূপার ভাটই বাজারে হাতুড়ে ডাক্তারের দৌরাত্ম॥ ভুল চিকিৎসায় সর্বস্ব খুইয়ে সাইফুল বেঁচে উঠলেও পথে বসেছে তার পরিবার

doctor
সাজ্জাদ আহমেদ, ঝিনাইদহ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপার ভাটই বাজারের এক পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকে শেষপর্যন্ত বেঁচে উঠলেও পথে বসেছে তার পরিবার। ভুক্তভোগী আহাসান নগরের মৃত মতলেরর ছেলে। তবে এ নামে কোন রোগীর চিকিৎসা দেননি দাবি করে অভিযুক্ত হাতুড়ে ডাক্তার অসিত জানিয়েছেন শত্রুতা করে তার বদনাম ছড়ানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম জানান, গত বছরের ১৪ মার্চ ধানের বাস্তা উঠাতে গিয়ে কোমরে প্রচন্ড ব্যাথা পান। ওদিন সন্ধ্যার দিকে ভাটই বাজারে অশিতের চেম্বারে গিয়ে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। এরপর তিনি বলেন এ কোন ব্যাপারই না, মাত্র ৩ টি ইনজেকশন নিতে হবে। ওই সময় দুটি ইনজেকশন দেয়। কিন্তু বাড়ি ফিরে আসার পর পেটে প্রচণ্ড ব্যাথা শুরু। রাত ৩ টার দিকে মুখ দিয়ে পায়খানা বের হতে থাকে। পরদিন সকালে পরিবারের লোকজন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় কিন্তু হাসপাতালের ডাক্তার না দেখেই ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। অর্থাভাবে পরিবারের লোকজন বাড়ি নিয়ে এসে টাকা যোগাড় করে পুনরায় ঝিনাইদহ ইসলামী প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ডায়রিয়ার চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ১৯ মার্চ ঢাকা মেডিকাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা জানান ভুল ইনজেকশনে নাড়ি ফুটো হয়ে গেছে। দির্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেন সাইফুল। ফের অসুস্থ্য হয়ে ২ দফা মেডিকেলে গিয়ে ৮ দিন চিকিৎসা নিয়ে এখন কোন রকম প্রাণে বেঁচে আছেন সাইফুল। তিনি অভিযোগ করেন সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছে তার পরিবার। তিনি নিজেও কোন কাজ করতে পারেন না। এরকম আরও অনেকে এই হাতুড়ে ডাক্তারের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে তিনি শাস্তির দাবি জানান। এসব কথা বলতে বলতে সাইফুল কেঁদে ফেলেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাইফুলের মতো ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন ভাইট দক্ষিণ পাড়ার নিপেনের মেয়ে তামান্না। তাকেও ভুল চিকিৎসা দিয়ে অসিত মৃত্যুপথের যাত্রী করেছেন। ভাইট বাজারে ব্রাদার্স ফার্মেসীর মাধ্যমে অশিত ও অশিতের বাবা অজিত এভাবে বছরের পর বছর ডাক্তার সেজে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিবিনি খেলছেন। এরফলে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরলেও কত মানুষ যে শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন তা তদন্ত করা হলে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে অশিতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ‘আমি’ এ নামের কাউকে চিকিৎসা দিইনি। হয়তো কেউ শত্রুতামূলক ভাবে মিথ্যা বদনাম ছড়াচ্ছে।

শেয়ার