যশোর বোর্ডের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভর্তি ফি ও বেতন আদায় ॥ ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ, বাস্তবায়নে বোর্ড কর্তৃপক্ষের গড়িমসি

jessore education boardjessore board
দেবু মল্লিক॥
শিক্ষকরা নিজেদের বেতন-ভাতা বাড়াতে শিক্ষা বর্ষের শুরুতেই যশোর বোর্ডের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বেতন আদায় করছে স্কুল-কলেজ। এমন খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অভিযুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাকে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দিতে কড়া তাগিদ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের চিঠি এসেছে যশোর শিক্ষা বোর্ডেও। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে শিক্ষা বোর্ড। গত এক সপ্তাহ পার হলেও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নূন্যতম কোন উদ্যোগ নেয়নি বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
সূত্র মতে, গত বছর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ায় সরকার। এ সময় বেতন বাড়ে শিক্ষকদেরও। তারপরও কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারীদের আরও বেশি বেতন দিতে শিক্ষা বর্ষের শুরুতেই বাড়তি ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন বাড়িয়ে দেয়। গত দুই মাস ধরে বর্ধিত এই বেতন আদায়ও করা হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগ থেকে এরকম প্রতিবেদন পায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে ক্ষুব্ধ হয় মন্ত্রণালয় এবং সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সালমা জাহান স্বাক্ষরিত ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির অজুহাতে দেশব্যাপী মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়-মাদ্রাসা-কলেজসমূহের অতিরিক্ত বেতন, ভর্তি ফি আদায় প্রসঙ্গে’ শীরোনামে একটি অফিস আদেশ যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়। ৩৭.০০.০০০০.০৭২.৪৪.০৯০.১২(অংশ)৮৩৯ নম্বর স্মারকের ওই অফিস আদেশের সাথে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি একটি প্রতিবেদন জুড়ে দেওয়া হয়। যেখানে যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতায় খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা রয়েছে। ২ মার্চ পাঠানো ওই অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভর্তি ফি ও বেতন বেশি নিয়েছে সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি ফি ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা অথবা আগামী মাসের বেতনের সাথে সমন্বয়পূর্বক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে নির্দেশক্রমে অনুনোধ করা হলো।’ তবে আট দিন আগে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মজিদের কাছে মন্ত্রণালয়ের নিদের্শনাটি আসলেও তা বাস্তবায়নে এখনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি, বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য নেই।
গতকাল মঙ্গলবার যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মজিদ জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র কাজ করছেন। তবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, যে নির্দেশনাটি দেওয়া হয়েছে তা পরীক্ষা সংক্রান্ত নয়। ভর্তি সংক্রান্ত। সংগতকারণেই বিদ্যালয় পরিদর্শক এ নিয়ে কাজ করছেন। গতকাল সন্ধ্যায় বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. আহসান হাবীবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি এসেছে। তবে এখন কাজ শুরু করা হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাটিও তার জানা নেই।

শেয়ার