ভোমরায় আমদানি নিষিদ্ধ ৭ কোটি টাকার গ্রানাইড স্লাব আটকের ১২ দিন পার, আটক হয়নি কেউ

granait slabs
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা॥ ভোমরা বন্দরে মার্বেল পাথর আমদানির ঘোষণা দিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ গ্যালাক্সী গ্রানাইড স্লাব দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর ৩৮ বিজিবি’র ভোমরা ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আটকের ১২দিন অতিবাহিত হলেও এঘটনায় জড়িত কাউকে পুলিশ এখনও আটক করতে পারেনি। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই আবুজার গিফারী জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এলাকায় না থাকায় আটক করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুতগতিতে চলছে। তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির ঘটনার সামনে-পেছনে কারা আছে তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিভিন্নভাবে জড়িতদের আইনামলে আনা হবে। পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির ঘটনাসহ অন্যান্য ঘটনার বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জড়িত আছে কি না সে ব্যাপারেও তদন্ত করতে সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স সেল এর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোসফিকুর রহমান রোববার ভোমরা বন্দরে এসেছেন।
প্রকাশ থাকে যে, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে সম্পূর্ণ ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে গত ২৬ ফেব্র“য়ারির রাতে ভোমরা বন্দরে মার্বেল পাথর আমদানির অন্তরালে ৪কোটি ৭৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকার গ্যালাক্সী গ্রানাইড স্লাাব ও ট্রাকসহ প্রায় ৭ কোটি টাকার পণ্য ভোমরা বন্দরে এনে তা ঢাকার উদ্দেশ্যে ৪টি কাভার্ড ভ্যানে রওনা হয়। এ খবর পেয়ে বিজিবি’র ভোমরা ক্যাম্পের সুবেদার হুমায়ূন কবীরের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তা আটক করা হয়। পরদিন বিজিবি’র হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে আমদানিকারক ঢাকার একেএম ট্রেড লাইনস লি: এর সত্ত্বাাধিকারি ও সিএন্ডএফ এজেন্ট খুলনার এম এস ওভারসিজ ট্রেডিং কোম্পানির পক্ষে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকার মৃত রজব আলী নায়েবের ছেলে মনিরুল ইসলাম ময়নাকে আসামি করে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ এর বি (১) (বি) ধারা মোতাবেক একটি মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলাটি গভীরভাবে তদন্তের জন্য রাতেই জেলা গোয়েন্দা বিভাগ ডিবি পুলিশের উপর তদন্তভার ন্যস্ত করা হয়।
এদিকে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই আবুজার গিফারী জানান, বিজিবি’র দায়েরকৃত মামলার নথির সাথে যাবতীয় কাগজপত্র পেশ করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, মেসার্স হোসেন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সীর মাধ্যমে এই পন্য পরিবহন করা হচ্ছিল। ভোমরা বন্দরে হোসেন ট্রান্সপোর্ট নামের কোন প্রতিষ্ঠান বা মালিকের হদিস পাওয়া যায়নি। উক্ত ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির কপির উপরে ০১৬১৪-৪৪৮৯১৯ নাম্বারে ফোন দিলে “ডায়ালকৃত নাম্বারটি এখন বন্ধ আছে” বলে জানানো হচ্ছে। একই কাগজের নীচে আমদানি কারকের পক্ষে ও গ্রহণকারির স্বাক্ষরের স্থানে দেয়া আছে ০১৭১২-৮৭৪২৩০ নাম্বার। এনাম্বারে ফোন দিলে সংযোগ দেয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি আটক ৪টি কাভার্ড ভ্যান ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-১২৬০, ১৩-০৩৯৫, ১৩-০৪৩৫, ও ১৩-১২২৮ ট্রাকগুলি পাথরসহ সাতক্ষীরা কাস্টমসে জমা রয়েছে। আটক কাভার্ড ভ্যানগুলির মালিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত নাম্বার গুলোও জাল কি না সেই সন্দেহের কথাও জানালেন তদন্তকারি কর্মকর্তা।
পাশাপাশি সম্প্রতি সরেজমিনে ভোমরা বন্দরে গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ভোমরা কাস্টমস, ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট নেতারা ও সাতক্ষীরা শহরের হাতে গোনা দুই একজন ব্যক্তির সহযোগিতায় অবৈধ পন্য অবৈধ কাগজপত্রের উপর ভর করে বৈধভাবে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হয়েছে। তবে তাদের দাবি, এ মামলার আলোচিত আসামি মনিরুল ইসলাম ময়না ইতোপূর্বে কয়েকটি চালান এভাবেই পার করেছে। বিধিবাম এবারের ধরা খাওয়াটা ছিল দুর্ভাগ্যজনক। এপণ্য দেশের অভ্যন্তরে ঢুকানোর জন্য কয়েক লাখ টাকার দেনদরবার হয় ঘটনার পিছনে থাকা কিছু ব্যক্তিদের সাথে। তারা এখন রয়েছে টেনশনে।
এব্যাপারে ভোমরা ইয়ার্ডের সহকারী পরিচালক পার্থ ঘোষ জানান, কোন ট্রাকে কি আছে সেটি আমার দেখার বিষয় নয়। ইয়ার্ডে রক্ষিত ট্রাকগুলি সংরক্ষণ, ওজন ও পন্য লোড আনলোডের বিষয় নিয়ে আমার কাজ। আমি সেটি যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করি।
সার্বিক বিষয়ে কথা হয়, ভোমরা বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা নাজির আহম্মেদ অলক এর সাথে। তিনি কাস্টমসের সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স সেল এর উপ-পরিচালক মোসফিকুর রহমানের আগমন এবং তদন্তের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শুধু পাথরের বিষয়ে নয় আরও অন্যান্য বিষয়ের উপর খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে তিনি এসেছেন। তবে কি পেয়েছেন সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারবো না।

শেয়ার