সেই বজ্রকণ্ঠ, আবার একাত্তরে ফেরা

sek
সমাজের কথা ডেস্ক॥ একাত্তর সালের সাতোই মার্চ যে ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, ৪৫ বছর পর সেই ভাষণই রঙিন হয়ে ফিরে ক্ষণিকের জন্য যেন নিয়ে গেল উত্তাল সেই দিনটিতে।
সোমবার আর্মি স্টেডিয়ামে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন এবং এর সহযোগী সংস্থা ইয়ং বাংলা আয়োজিত ‘জয় বাংলা কনসার্টে’ দেখানো হয় বিশ্বসেরা ভাষণের তালিকায় স্থান পাওয়া বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণটির রঙিন সংস্করণ।
ভিডিও আর স্থিরচিত্রে ধারণ করা একাত্তরের ৭ মার্চকে রঙিন করিয়ে আনা হয়েছে ভারত থেকে। সেই সংস্করণই প্রথমবারের মতো দেখানো হয় আর্মি স্টেডিয়ামে জড়ো হওয়া হাজার হাজার মানুষের সামনে।
আর স্টেডিয়ামে বসে এর সাক্ষী হন বঙ্গবন্ধুর দুই দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি।
রঙিন এই ভাষণ দেখে একাত্তরে ফিরে যায় কনসার্টে উপস্থিত হওয়া নানা বয়সী হাজারো মানুষ। জাতির জনকের বক্তব্যের ধ্বনির উত্থান পতনে হৃদয়ে তোলা ঝড়টা যেন আরেকটু নৈকট্যের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, যা এতদিন ছিল না।
বন্ধুদের সঙ্গে কনসার্টে থাকা শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান লেন, “আজকে মূলত এই ভাষণটির রঙিন সংস্করণ দেখানো হবে জেনেই এখানে এসেছি। বাঙালি মাত্রই বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণটির সঙ্গে খুবই পরিচিত। আজ সেই পরিচয়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে। আমরা ভিন্নভাবে এই ভাষণটি দেখতে পেরেছি।
“এটা যেন একাত্তরের সেই ৭ মার্চের ভাষণের ক্ষণের মতোই।”
‘প্রাচ্যনাট’র কর্মীদের সাতচল্লিশ থেকে একাত্তর সাল পর্যন্ত ইতিহাসের ঘটনাবলী উপস্থাপনের মধ্যে রঙিন ভাষণে আসেন বঙ্গবন্ধু।

এ সময় দেশ বিভাগ পরবর্তী সময়ের পাকিস্তানিদের শোষণ-বঞ্চনা ও অত্যাচার-নির্যাতনের বিপরীতে বাঙালি জাতি সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

‘ড্রামা শো’র ঘটনা পরম্পরায় ৭ মার্চ পর্যন্ত আসার পর জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে উঠে রঙিন ভাষণ, সেই বজ্রকণ্ঠ- ‘ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখ ভরাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি’।

পিনপতন নিরবতায় ১৯ মিনিটের এই ভাষণ চললেও ক্ষণে ক্ষণে জেগে উঠে আর্মি স্টেডিয়ামের জনতাও, যেভাবে একাত্তরের ওই দিনে রেসকোর্সে জনতাও সায় দিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে।

ভাষণে বঙ্গবন্ধুর ‘তিনি আমার কথা রাখলেন না, রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা’ এবং ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ অংশের সঙ্গে উপস্থিত সবাই কণ্ঠে মেলান।

‘সাত কোটি মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি তখন কেউ আমাদের দাবাতে পারবেনা’ অংশের পর ‘পারবা না, পারবা না’ বলে উঠেন সবাই।
ভাষণের শেষাংশে বঙ্গবন্ধু ‘জয় বাংলা’ বলার পর স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণ থেকে সমস্বরে ‘জয় বাংলা’ ভেসে আসে। বেশ কয়েকবার স্টেডিয়াম প্রকম্পিত হয় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে।

একাত্তরের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) স্বাধীনতাকামী সাত কোটি মানুষকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রেরণাদায়ী ওই ভাষণ এখনও আলোচিত, এনিয়ে লেখা হয়েছে কবিতাও। কবি নির্মলেন্দু গুণের ভাষায়- ‘তারপর থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের’।

বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণকে বিশ্বসেরা অন্যতম ভাষণ বলে অনেকে মনে করেন। ২০১৪ সালে বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি প্রকাশনায় তা স্থান পেয়েছে।

শেয়ার