যশোরে উদীচী ট্র্যাজেডির শহীদদের স্মরণ

udici
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নানা কর্মসূচিতে ঘাতকদের বিচারের দাবির মধ্যদিয়ে যশোরের উদীচী হত্যাযজ্ঞের ১৭তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। রোববার দিনব্যাপি রক্তদান কর্মসূচি, স্মারক স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আলোচনা সভা ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যদিয়ে দিবসটি পালন করা হয়েছে। সংস্কৃতিকর্মীরা এ দিনটিকে সংস্কৃতি রক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
দিনের শুরুতে উদীচী যশোর কার্যালয়ে দলীয় ও শোক পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর রক্তদান কর্মসূচি পালন করা হয়। বিকেলে শহরের টাউন হল ময়দানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মারক স্তম্ভে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অপর্ণ করা হয়েছে। উদীচী জেলা সংসদের সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে প্রথমে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। এরপর জেলা সম্মিলিতি সাংস্কৃতিক জোট, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সুরবিতান, সিপিবি, চাঁদের হাট, শিল্পকলা একাডেমি, মহিলা পরিষদ, বিবর্তন, অগ্নিবীণা, স্পন্দনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে টাউন হল রওশন আলী মঞ্চে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উদীচী যশোরের উপদেষ্টা কাজী আব্দুস শহীদ লাল। সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামান।
বক্তব্য রাখেন যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম, সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, প্রেসক্লাব যশোরের সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য, রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি শ্রাবণী সুর প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উদীচী যশোরের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বিপ্লব। এরপর শহীদ বেদীতে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ গভীর রাতে যশোর টাউন হল মাঠে উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পর পর দুটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় ১০ জন। আহত হন আরও আড়াই শতাধিক মানুষ। এই জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছিল তাও উদ্ঘাটন হয়নি আজোও।

শেয়ার