তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে বসবাস, এএসআইয়ের নামে মামলা

mamlamamla
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে তালাক দেয়া স্ত্রীকে পুনঃরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘরসংসার করে প্রতারণা করেছে রেজাউল ইসলাম নামে পুলিশের এক এএসআই। তার বিরুদ্ধে গতকাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন বাঘারপাড়া উপজেলার সুখদেবপুর গ্রামের দাউদ মোল্যার মেয়ে লাবনী আক্তার তানিয়া।
বিচারক মো. শাজাহান আলী মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামি রেজাউল ইসলাম কুষ্টিয়া সদরের জগতি পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত আছেন। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুলপালা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার বাদী লাবনী আক্তার তানিয়াকে কয়েক বছর আগে রেজাউল ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সংসার জীবনে তাদের একটি ছেলে রয়েছে। পারিবারিক অশান্তির কারণে তানিয়া স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্য়াতন এবং পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ও উভয় পক্ষের আইনজীবীর মধ্যস্থ্যতায় তাদের স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে। ওই সময় তানিয়াকে তার স্বামী রেজাউল ইসলাম নগদ দুই লাখ টাকা দেন। এছাড়া সন্তানের ভরণপোষণ বাবদ প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে দেয়ার কথা বলেন। এরই মধ্যে রেজাউল ইসলাম তানিয়াকে পুনঃরায় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করবে বলে প্রলোভন দেখায়। শহরের লোহাপট্টির জয়নাল হাজারির বাড়িতে বাসা ভাড়া করে। ওই বাসায় রেজাউল ইসলাম মাঝে মধ্যে এসে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তানিয়ার কাছে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে রেজাউলের আত্মীয় বাড়িসহ বিভিন্নস্থানে নিয়ে তানিয়াকে বেড়াতে নেয়। এরই মধ্যে তানিয়া বিয়ের কথা বললে রেজাউল বলে যে তার প্রথম স্ত্রী জানলে চাকরি থাকবেনা। ফলে যশোরে বদলি হয়ে এসে গোপনে বিয়ে করবেন বলে তানিয়াকে আশ্বাস্ত করেন। সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে শহরের জেস টাওয়ার মার্কেটের সামনে তানিয়া রেজাউলকে বিয়ের কথা বলেন। এসময় রেজাউল অস্বীকার করেন। রেজাউলের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করার অভিযোগ এনে তানিয়া আদালতে মামলা করেছেন।

শেয়ার