তরুণী গণধর্ষণ মামলায় ৩ জন আটক॥ যশোর আদালতে দু’জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

rape
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে তরুণী গণধর্ষণের মামলার তিন আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। এরমধ্যে শাকিল হোসেন রাসেল (১৯) ও রাশেদ হোসেনকে (১৮) রোববার ভোরে এবং জাকারিয়া হোসেন (২৫) নামে আরেক আসামিকে এদিন বিকালে আটক করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। সকালে আটক দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া হলে তারা ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. শাজাহান আলী ওই দু’জনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
জবানবন্দি দেয়া শাকিল হোসেন রাসেল সদর উপজেলার মোবারককাঠি গ্রামের সাকের আলী মোড়লের ছেলে ও রাশেদ হোসেন একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম পুটের ছেলে। বিকালে আটক জাকারিয়া হোসেন একই গ্রামের কাওছার আলী ঝুলার ছেলে।
পুলিশ সূত্র মতে, গত ৩ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোবারককাঠি গ্রামের ২৫ বছরের এক মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হন। এসময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা জাকারিয়া, রাসেল এবং রাশেদসহ আরো একজন যুবক ওই ঘরের পিছনে থাকাবস্থায় তরুণীকে পেয়ে মুখ চেপে ধরে পাশে প্রফেসরের পরিত্যক্ত ইট ভাটার মধ্যে নিয়ে যায়। এরপর তাকে ওই চারজনে পালাক্রমে ‘ধর্ষণ’ করেন। তরুণীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ওই ধর্ষকরা পালিয়ে চলে যায়। এঘটনায় তরুণীর পিতার দায়ের করা মামলায় রোববার ভোর রাতে বাড়ি থেকে রাসেল ও রাশেদকে আটক করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শ্যামলাল নাথ। এরপর আটক দু’জন ঘটনার সাথে জড়িত থাকার স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করেছেন, গত বুধবার রাত ৮টার দিকে আসামি জাকারিয়া অন্য তিনজনকে বলেছে রাতে একটা কাজ আছে। ফোন করলে সবাই চলে আসবে। রাত ১২টার দিকে জাকারিয়া সকলকে ডেকে ওই প্রতিবন্ধী তরুণীর বাড়িতে ঘরের পিছনে অবস্থান নেয়। মেয়েটি ঘরের বাইরে এলে মুখ চেপে ধরে নিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এঘটনার সাথে জড়িত আরো একজন পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাকের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন।

শেয়ার