অভয়নগরে গমের বাম্পার ফলনে বেজায় খুশি কৃষক

Weat
নওয়াপাড়া প্রতিনিধি॥ টানা ২ বছর ধানে ক্ষতিরমুখে পড়া অভয়নগরের চাষীরা গম চাষে বাম্পার ফলন পেয়ে বেশ খুশি। এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুন জমিতে গমের চাষ হয়েছে। গমের বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে হতাশাগ্রস্থ কৃষকের এমন দাবি অনেকের।
জানাগেছে, সার, ডিজেল ও বিদ্যুৎসহ ধান উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় টানা ২ বছর এ উপজেলার কৃষকদের ধান চাষ করে লোকসান গুনতে হয়েছে। এক্ষেত্রে গমের উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার গম চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুন জমিতে গমের চাষ হয়েছে। বাম্পার ফলনও হয়েছে। কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে, গত মওসুমে গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১’শ ২০ হেক্টর। আবাদ হয়েছিল ২০৫ হেক্টর জমিতে। এবার গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২’শ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৪০০ হেক্টর জমিতে। গত মওসুমের তুলনায় এবারও দ্বিগুণ জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে আশানুরুপ। কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন হয়েছে ৩ টন। এ বছর অভয়নগরে গমের মোট উৎপাদন হবে ১ হাজার ২শ টন। ফলে কৃষকরা তাদের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবে বলে কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি। ধোপাদী গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম (৩০) বলেন, “টানা দু’বছর ধান চাষ করে পথে বসেছি। এবার এক বিঘা জমিতে গমের চাষ করেছি। খরচ হয়েছে ধান চাষের অর্ধেকেরও কম। সে তুলনায় ফলন অনেক ভালো। আশাকরছি, ভালো লাভ হবে।” বাহিরঘাট গ্রামের কৃষক ওয়াজেদ আলী বলেন,“ধানের চেয়ে গম চাষ করে অনেক ভালো ফলন পেয়েছি। খরচও কম হয়েছে। সরখোলা গ্রামের গম চাষি আনোয়ার হোসেন জানায়, ধানের চেয়ে গম আবাদ লাভজনক। তাছাড়া গম কেটে তিল বা পাট চাষ করতে পারব। এজন্য গত বছর প্রায় ৬ বিঘা জমিতে গম চাষ করেছিলাম। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছিল ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় (৫২ শতক হিসেবে) গড়ে ১৮ মন গম পেয়েছিলাম। বিঘা প্রতি উৎপাদিত গম বিক্রি করেছিলাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা। ভাল লাভ হওয়ায় এবছর ৭ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। উৎপাদিত গম সরকারি গুদামে বিক্রি করতে গেলে সমস্যার সম্মূখীন হতে হয়। এই সমস্যা দূর করে গম যদি সরকারি গুদামে বিক্রি করতে পারি তবে আগামীতে আরো গম চাষ করব। উপজেলা উপÑসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার বলেন, গম উৎপাদনে সেচ, সার ও শ্রমিক খরচ কম হওয়ায় এবং পোকা মাকড় খুব বেশী ক্ষতি করতে না পারায় কৃষকরা গম চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ফলে এবার গমের বাম্পার ফলন হয়েছে।”

শেয়ার