বিএনপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত খালেদা-তারেক

Khalada tarek
সমাজের কথা ডেস্ক॥ টানা চতুর্থবার বিএনপির চেয়ারপারসন পদে খালেদা জিয়া নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বার জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যানের পদে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তার ছেলে তারেক রহমান।
শীর্ষ এই দুই পদে আর কোনো প্রার্থী না থাকায় রোববার দুজনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন কাউন্সিল উপলক্ষে গঠিত নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান, সাবেক স্পিকার মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার।
বিএনপি গঠনকারী জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ১৯৮১ সালে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার এক বছরের মধ্যে রাজনীতিতে নেমেই দলের ভাইস চেয়ারম্যান পদ নিয়েছিলেন খালেদা।
তখন বিএনপির চেয়ারম্যান ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ ১৯৮২ সালে বিএনপি হটিয়ে ক্ষমতা দখল করলে সাত্তারের অসুস্থতার মধ্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের পদ নিয়ে দলের হাল ধরেন খালেদা।
তারপর ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা। সেই থেকে তিনি এই পদে রয়েছেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর দুই বার তার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি।

জিয়া-খালেদার বড় ছেলে তারেক বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এক যুগ আগে রাজনীতিতে যুক্ত হয়েই দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হন। তারপর ২০০৯ সালের কাউন্সিলে জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পদোন্নতি ঘটে তার।
জরুরি অবস্থায় গ্রেপ্তার এবং জামিনে মুক্তির পর ডজন খানেক মামলা মাথায় নিয়ে যুক্তরাজ্যে থাকা অবস্থায় গত কাউন্সিলে বিএনপির দ্বিতীয় শীর্ষ পদে আসেন তারেক, যাকে ভবিষ্যৎ কান্ডারি মনে করেন দলটির কর্মীরা। সাত বছর পর এবার বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলের ঘোষণা দেওয়ার পর প্রথমে চেয়ারপারসন ও জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়।
ত্রিশোর্ধ্ব যে কোনো চাঁদাদাতা সদস্যের সুযোগ থাকলেও ২ মার্চ মনোনয়নপত্র সংগ্রহের নির্ধারিত দিনে দুই পদে খালেদা ও তারেক ছাড়া আর কেউ মনোনয়নপত্র না নেওয়ায় তাদের পুনর্র্নিবাচিত হওয়াটা স্পষ্ট হয়ে যায়।
৪ মার্চ দুজনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। বাছাইয়ের পর সিদ্ধান্ত জানাতে দুদিন পর বিকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনের অপরাপর সদস্যদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন জমিরউদ্দিন সরকার।
তিনি বলেন, “চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে জন্য যথ্ক্রামে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান একক বৈধ প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচন কমিশন বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারম্যান পদে এবং তারেক রহমানকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে আগামী তিন বছরের জন্য নির্বাচিত ঘোষণা করছে।”

শেয়ার