পাটকে কৃষিপণ্য ঘোষণা

Sheikh Hasina
সমাজের কথা ডেস্ক॥ দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে বিবেচনা করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ এর সফল বাস্তবায়ন উপলক্ষে সম্মাননা প্রদান এবং বহুমুখী পাটপণ্য মেলার’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পাট কৃষিজাত পণ্য। অন্য সব পণ্য, যার সাথে কৃষির একটু সম্পর্ক সেগুলোও কৃষিপণ্য হিসেবে বিশেষ সুবিধা পায়, আর পাট পায় না, এটাতো বোঝানো যায় না।
“আমি একটা ঘোষণা দিতে চাই, আমাদের পাটপণ্য এবং পাটকে আমরা কৃষিজাত পণ্য হিসেবেই বিবেচনা করব।”
অনুষ্ঠানে পাটকে কৃষিজাত পণ্যের ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে শুরুতেই দাবি জানান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, পাট কৃষিপণ্য হিসেবে বিবেচিত না হওয়ায় অন্যান্য কৃষিপণ্যে যে ধরনের সরকারি ভর্তুকির সুযোগ রয়েছে পাটে তা নেই। তাই পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার অনুরোধ জানান সাবের।
শেখ হাসিনা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য, পোশাকসহ পাট থেকে বিভিন্ন পণ্য তৈরি এবং ব্যবহারের কথা তুলে ধরেন এবং পরিবেশসম্মত এ পণ্যের ব্যবহার ও উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দেন। “কাজেই আমি চাইব, আমাদের এ সম্পদটাকে যে কোনো ভাবেই হোক রক্ষা করতে হবে।” এ পণ্য রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, “নিজেদের যে সম্পদ আছে তা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। কারও কাছে হাত পেতে বা ভিক্ষা করে নয়; নিজেদের মর্যাদা নিয়ে বিশ্বসভায় চলব আমরা।”
সরকারি হিসাবে একসময় দেশে ৮৭টি পাটকল থাকলেও আশির দশক থেকে এগুলো বেসরকারিকরণের নামে ‘নামমাত্র’ মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া শুরু হয়। ৬০টির বেশি মিল এভাবে বেসরকারিকরণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা এদেশের যে বিষয়গুলো সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং যেগুলো স্বাধীনতার সংগ্রামের সেগুলো ধ্বংস করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। সেনা শাসক জিয়াউর রহমান ও এরশাদের পর খালেদা জিয়ার শাসনামলে কীভাবে পাটখাতকে ধ্বংস করা হয়েছে তাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শেয়ার