চিনির বিরুদ্ধে যুদ্ধ

sugar

সমাজের কথা ডেস্ক॥ আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম দেশ হিসেবে চিনির বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
দেশটি বাজেট ঘাটতি মোকাবেলার পাশাপাশি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুটিয়ে যাওয়া এবং অবসাদগ্রস্ততার প্রবণতা ঠেকাতে কোমল পানীয়সহ সব ধরনের মিষ্টি পানীয়ের উপর কর বসানোর পরিকল্পনা করছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চলতি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থমন্ত্রী প্রভিন গোর্ধান তার বাজেট বক্তৃতায় কর বসানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বেভারেজ অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথ আফ্রিকা। খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের অন্যান্য দিক বাদ রেখে কেবল পানীয়র উপর কর বসানোর পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে তারা।
২০১৪ সালের এক প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতি চারজনে একজন অবসাদে আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ‘মুটিয়ে যাওয়া’র ব্যাপারেও উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা।
ডব্লিওএইচও’র মতে, একজন ব্যক্তির দৈনিক ১০ চা চামচ পরিমাণ মিষ্টিই ‘যথেষ্ট’। দক্ষিণ আফ্রিকায় গড়পড়তা এ হার ১৭ চা চামচ।
২০১৩ সালে জোহানেসবার্গের হিউম্যান সাইন্স রিসার্চ কাউন্সিলের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির প্রতি পাঁচজনে একজন মাত্রাতিরিক্ত কোমল পানীয়ে আসক্ত।
এ অতিরিক্ত মিষ্টিকে টাইপ টু ডায়াবেটিক, হৃদরোগসহ আরও অনেক রোগের জন্য দায়ী করা হয়।
চিকিৎসা ব্যবস্থা ‘সরকারি’ হওয়ায় বিশাল সংখ্যক অসুস্থ রোগীর দায়ভারও সে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারকে বহন করতে হয়।
সবদিক বিবেচনায় নিয়েই সরকার এ পথে এগুচ্ছে বলে দেশটির একজন কর বিশেষজ্ঞ বিবিসিকে জানিয়েছেন।

“এখন ঠিক করতে হবে করের পরিমাণ কী হবে। এটা যেন খুব কমও না হয়, আবার বেশিও না থাকে; কেননা এর সঙ্গে অর্থনীতি জড়িত,” বলেন কাইল ম্যান্ডি।
চিনি ও কোমল পানীয় শিল্পের উপর দেশটির অন্তত ১০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িয়ে আছে বলে ম্যান্ডি জানান।
সরকারি পরিকল্পনা পাস হলে ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে কোমল পানীয়র উপর কর প্রযোজ্য হবে।
সরকারের এ পরিকল্পনার সমালোচনাও করেছেন অনেক নাগরিক। তাদের ভাষ্য, এ ‘অনিষ্ট কর’ চাপিয়ে দেওয়ার আগে সরকারের উচিত স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম কমানো।
কেউ কেউ বলছেন ‘কর’ বসালেও ‘সস্তা’ হওয়ায় এ পরিকল্পনা সফল হবে না। দেশটিতে মাত্র দশমিক পাঁচ সেন্টে ৩৩০ মিলিলিটার কোমল পানীয়ের ক্যান মেলে।
“দাম খানিকটা বাড়লেও আমি এটা খাবোই। হয়তো আগের চেয়ে কম খাব, তবে বন্ধ হবে না,” বলেন জোহানেসবার্গ ইউনিভার্সিটির তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রেশাস।

শেয়ার