এশিয়া কাপের ধুন্ধুমার ফাইনাল আজ ॥ শিরোপার আশায় বুক বেঁধেছে ষোল কোটি জনতা

fi
সমাজের কথা ডেস্ক॥ এশিয়া কাপের ধুন্ধুমার ফাইনাল আজ। চার বছর আগের এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের যন্ত্রণা তাড়া করে ফিরছিল বাংলাদেশকে। সেই যন্ত্রণাকে পেছনে ফেলে সেই পাকিস্তানকে হারিয়ে আজ ফাইনালের মঞ্চে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ভারত। পরাক্রমশালী ভারতকে হারিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা কি তুলে ধরতে পারবে বাংলাদেশ? নিশ্চই পারবে-এ আশায় বুক বেঁধে আছে ষোল কোটি বাংলাদেশি।
ওয়ানডে ক্রিকেটে ভারতকে হারানো গিয়েছে কয়েকবার। তবে টি২০ ফরম্যাটে এখনও বাংলাদেশের কাছে দুর্বোধ্য ভারত। আগের তিন মোকাবেলায় জয়ী ভারতই। আবার টি২০ র‌্যাংকিংয়েও ব্যাপক তফাত। ভারত এক, বাংলাদেশ সেখানে দশ নাম্বারে। তবে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো দলকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে আসা টাইগার শিবিরও বেশ আত্ববিশ্বাসী ম্যাচটিকে ঘিরে। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফিতো বলেই দিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ভারতকে হারানো সম্ভব।
রোববার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এশিয়া কাপের শিরোপা লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আবারো টাইগারদের সামনে শিরোপা জয়ের হাতছানি। এ ম্যাচকে সামনে রেখে শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঘাম ঝরিয়েছে স্বাগতিক খেলোয়াড়রা। দলের অনুশীলনের আগে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। তিনি জানিয়েছেন, ভারতে হারানো সম্ভব।
চার বছর আগের এশিয়া কাপ ফাইনালের যন্ত্রণার গ্লানিতে ভুগেছিলেন সব থেকে বেশি মাহমুদুল্লা রিয়াদ। মাহমুদুল্লার গ্লানিটা একটু বেশি থাকবেই না কেন? সেদিন ক্রিজে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তো তিনিই টিকে ছিলেন। আর তাই তো সেদিনের যন্ত্রণাটা তাকেই বেশি ক্ষত করেছে। সে থেকেই তিনি আরেকটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন পাকিস্তানের উপর প্রতিশোধ নিতে। সেই সুযোগ পেয়েও গেলেন এবারের এশিয়া কাপ আসরে গেল বুধবার।
বুধবারের সে ম্যাচে পাকিস্তানের আনোয়ার আলি যখন শেষ ওভার করতে যাচ্ছেন, মাহমুদুল্লাহ’র দিকে এগিয়ে গেলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি মাহমুদুল্লাকে অভয় দিয়ে মনে করিয়ে দিলেন সেই চার বছর আগেকার কথা। তিনি মাহমুদুল্লাকে বললেন, ‘কতবার তোর মুখে শুনেছি ২০১২’র সেই ফাইনাল হারের কথা। তুই তো বলতিস, এখনও তোকে যন্ত্রণা দেয়। আর এ-ও বলতি, কোনও দিন যদি আবার সুযোগ আসে, এই যন্ত্রণা মুছে ফেলার চেষ্টা করবি। নে, আজই সেই সুযোগ। কাজে লাগা।’
অধিনায়কের এমন অভয় বাণী আর উৎসাহ কাজে লাগিয়েছিল মাহমুদুল্লা। শেষ বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পুরো বাংলাদেশকে খুশির বন্যায় ভাসিয়েছেন তিনি। সেই সাথে চার বছর আগের প্রতিশোধ তুলেছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। দুই রানের হারের প্রতি উত্তর ৫ উইকেটের বিশাল জয় পেয়েছে সেদিন বাংলার দামাল ছেলেরা। যার বদলতে ফাইনালে আবারও বাংলাদেশ। তবে এবার তাদের প্রতিপক্ষ ভারত।

সেই চার বছর আগের এশিয়া কাপ থেকে কিন্তু বাংলাদেশের কাছে হেরেই চোখের জলে বিদায় নিয়েছিল আজকের ভারত। আর সেটি ছিল ভারতের শচিন টেন্ডুলকরের শততম সেঞ্চুরির টুর্নামেন্ট। তারপরও ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ হয়ে উঠেনি ভারতের। আর তাই হয় তো ভারতও মনে মনে গ্লানি বয়ে বেড়াচ্ছেন সেই চার বছর আগে বাংলাদেশের কাছে হেরে যাওয়ার যন্ত্রণা।
চার বছর আগের এশিয়া কাপে ভারতকে টপকে ফাইনালে উঠে এসেছিল বাংলাদেশ। আর সেদিন ফাইনালে এসে মাত্র ২ রানে পাকিস্তানের কাছে হেরে এশিয়া কাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল বাংলাদেশের। আর এবার পাকিস্তানকে ফাইনালেই আসতে দেয়নি টাইগার বাহিনী। তবে এবারের ফাইনালিস্ট কিন্তু সে বারের ফাইনাল খেলার আগেই বিদায় নেয়া ভারত। তাই লড়াইটা যে হাড্ডাহাড্ডি হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
এটুকু এখন নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, ভারত মুখিয়ে আছে সেই চার বছর আগের প্রতিশোধ নিতে। আর বাংলাদেশও ঠিক সেই চারবছর আগে জয়ের বন্দরে এসেও তরী ডুবে যাওয়ার ক্ষত বুকে। তাই লড়াইটা হবে অনেকটা সেয়ানে সেয়ানে।
এদিকে ফাইনালে বাংলাদেশকে বেশ সমীহ করছেন ভারত। ধোনির মতে, বাংলাদেশ অনেক ভালো দল। খুব ভালো একটা ফাইনাল হবে। লড়াইটাও হবে বেশ জোরদার।

এশিয়া কাপে এখনো পর্যন্ত অপরাজিত রয়েছে ভারত। সেই দলকে ফাইনালে হারানো প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, ‘শক্তির জায়গাগুলো বলতে, আমাদের দলে বেশকজন তরুণ ক্রিকেটার আছে। তারা যে শুধু সম্ভাবনাময়, তাই নয়। সেই সম্ভাবনাকে তারা কাজে লাগাতে পারছে। এটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। গত দুটি ম্যাচ আমরা দল হিসেবে খেলে জিতেছি। এই মুহূর্তে আমাদের দলীয় একতা দারুণ। সেটাকেই আমরা ধরে রাখতে চাই। আর অবশ্যই খুব ভালো সুযোগ রয়েছে। কারণ দর্শক, মাঠ, ড্রেসিংরুম, সবই আমাদের পক্ষে।’
ভারতের রয়েছে শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ। সেই ব্যাটিং লাইনআপ দিয়ে বিশ্বের যে কোন দলের বোলিং লাইনআপকে গুড়িয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে রোহিত-কোহলিরা। তবে ভারতের বিপক্ষে পুরো ২০ ওভার সতর্ক হয়ে খেলতে হবে। সেই সঙ্গে প্রথম ৬ ওভার যদি এ ধরণের ম্যাচে ফোকাস রাখা যায়। তাহলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ জেতা সম্ভব বলে মনে করছেন মাশরাফি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘ভারতের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই। ওদের টপ ৬ ব্যাটসম্যানই বিশ্বমানের, বিশেষ করে ওয়ানডে ও টি২০তে। টেস্টেও অনেকেই আছেন। কোনো সন্দেহ নেই, সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গায় তাদের আটকানোর সুযোগ নেই। প্রথম ওভার থেকে ২০ ওভার পর্যন্ত ভালো বোলিং করতে হবে। ওরা অবশ্যই চার্জ করবে, আমাদের চেষ্টা করতে হবে যতটা সম্ভব মিনিমাইজ করা যায়। তবে এই ধরণের ম্যাচে প্রথম ৬ ওভার বা শেষের কয়েক ওভার ঝুঁকিপূর্ণ হয়। সেদিকেই আমাদের ফোকাস বেশি থাকবে।’
অধিনায়কের মুখের কথাতেই মনে হচ্ছে, এবারের এশিয়া কাপে নতুন এক ইতিহাস রচনা করতে পারে বাংলাদেশ। অগ্নিঝরা মার্চে আরও একবার জ্বলে উঠতে পারে বাংলাদেশ। কাঙ্ক্ষিত জয় ছিনিয়ে আনার জন্য পাকিস্তানের মত ভারত শিবিরেও হামলে পড়বে বাংলার টাইগার বাহিনী। এমন প্রত্যাশা এখন বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষের।

শেয়ার