যশোর সদরের ১৫ ইউপি নির্বাচন॥ সরব হয়ে উঠেছে গ্রামের হাট-বাজার

upo nirbachon
দেবু মল্লিক॥
সবেমাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এখনো যাচাই-বছাই হয়নি। পার হয়নি দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়। হয়নি প্রতীক বরাদ্দ। তারপরেও জাতীয় নির্বাচনের মতো উৎসব শুরু হয়েছে যশোর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়া ৪৬ নেতার পক্ষে কর্মীরা নানাভাবে চালাচ্ছেন অনানুষ্ঠানিক প্রচারণা। নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরাও। বরাবরের নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রথা ভেঙে প্রথমবারের মতো নৌকা, ধানের শীষ, লাঙল আর হাতপাখার কারণে স্থানীয় নির্বাচন হলেও ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে জাতীয় নির্বাচনের উৎসাহ। সকাল থেকে বেশ রাত পর্যন্ত চায়ের দোকানে চলছে ভোট আড্ডা। সরব হয়ে উঠেছে গ্রামের হাট-বাজার।
যশোর সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ওয়াহিদা আফরোজ জানান, দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র শনি ও রবিবার যাচাই বাছাই করা হবে। ১৩ মার্চ বৈধ প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। তারপর স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের সদস্য প্রার্থীদের অনুকুলে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী তারপরই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামতে পারবেন।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ের একাধিক নেতা ও সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী নির্বাচনী অফিস নির্মাণের তোড়জোড় চালাচ্ছেন। একই সাথে তারা দল বেধে চায়ের দোকান, হাট বাজারে নিজ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। তবে আইনি ঝামেলা এড়াতে তারা ভোট না চেয়ে ভোটারদের কাছে চাইছেন দোয়া। উপশহর ইউনিয়নের বি-ব্লকের বাসিন্দা মোস্তাফা হাসমী সাজিদ জানান, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর পরই এলাকায় উৎসব উৎসব ভাব তৈরি হয়েছে। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের এহসানুর রহমান লিটু ও বিএনপির রেজাউল ইসলাম কামাল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা বর্তমানে এলাকার মুরব্বিদের কাছে দোয়া চাইছেন। তিনি আরো জানান, নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীদের থেকে নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ একটু বেশি। তবে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা নেই তৎপরতায় পিছিয়ে রয়েছেন। বসুন্দিয়া মোড়ের ওজেদ আলী জানান, তাদের ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান পদে রিয়াজুল ইসলাম খান রাসেল প্রার্থী করেছে। রাসেলকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা বেড়েছে। যার প্রভাব পড়ছে নির্বাচনী মাঠে। নেতাকর্মীরা সকাল থেকে গভীর রাত অবধি ভোটারদের সাথে নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন। তবে তারা ভোট নয়, দোয়া চাইছেন। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির অ্যাডভোকেট নূর জামান খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন রেদওয়ান খান চুন্নু ও আবু বক্কর। তাদের নেতাকর্মীরাও মাঠে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৫ চেয়ারম্যান পদে ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ১৫ জন করে ছাড়াও স্বতন্ত্র ১২ জন এবং জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের দুই জন করে প্রার্থী রয়েছেন। মঙ্গলবার ও বুধবার মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন ১৫ ইউনিয়নের ১৩৫টি সাধারণ সদস্যের বিপরীতে ৫৩২ জন ও ৪৫টি সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে ১৩৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। উৎসবমুখর পরিবেশে এসব প্রার্থীরা উপজেলার সাতটি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

শেয়ার