করের চাপে আমেরিকায় পাসপোর্ট ত্যাগের রেকর্ড

pass
সমাজের কথা ডেস্ক॥ করের যাঁতায় পিষ্ট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাসপোর্ট ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে।
আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি সংখ্যায় আমেরিকান নিজের দেশের পাসপোর্ট ছাড়ছেন বলেও সিএনএন মানির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সর্বশেষ সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ থেকে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং সেখানে দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসরতদের দেশটির সরকারের সঙ্গে ‘আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক’ চুকিয়ে ফেলার হার আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড চার হাজার ২৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এই সংখ্যা ২০০৮ সালের তুলনায় ১৮ গুণ বেশি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটা প্রবণতা হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে সিএনএন মানি জানিয়েছে। কারণ হিসেবে বিদেশে বসবাসরত আমেরিকানদের কর সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ছয় বছর আগে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর কর নিয়ে নাগরিকদের মাথাব্যথা আরও বেড়েছে বলে এতে বলা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে ২৩১, ২০০৯ সালে ৭৪২, ২০১০ সালে ১৫৩৪, ২০১১ সালে ১৭৮১, ২০১২ সালে ৯৩৩, ২০১৩ সালে ৩০০০, ২০১৪ সালে ৩৪১৫ জন নাগরিকত্ব ছেড়েছেন। এদের বেশিরভাগই বিদেশে কর্মরত আমেরিকান।
কর আদায়ের ক্ষেত্রে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ থেকে কঠোর নীতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নাগরিকদের সব ধরনের আয়ের ওপর কর আরোপ করা হয়েছে, তা যেখান থেকে আয় করা হোক বা নাগরিক যেখানে বসবাস করুক না কেন। ফলশ্রুতিতে বিদেশে বসবাসরত আমেরিকানদের জন্য কর সংক্রান্ত বিপুল দাপ্তরিক কার্যক্রম এত জটিল হয়েছে যে, তারা বড় অংকের অর্থ খরচ করে একাউনটেন্ট ও আইনজীবী নিয়োগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
২০১০ সালে ‘ফরেন একাউন্ট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স এ্যাক্ট’ কার্যকর হওয়ার পর এই ঝামেলা আরও বেড়েছে।
এতে বিদেশে বসবাসরতদের সেখানকার নির্দিষ্ট কিছু সম্পদ এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যাতে আমেরিকানদের সব বিদেশি অ্যাকাউন্ট প্রকাশ হয়। আগে যেখানে ১০ হাজার ডলারের বেশি থাকা ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়ার বিধান ছিল এখন তার ওপর নতুন ওই বিধি এসেছে।

কর ফাঁকি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে নতুন এই বিধিমালা এসেছে। শীর্ষ পর্যায়ের সুইস ব্যাংকগুলো বিদেশে অর্থ লুকিয়ে রাখতে আমেরিকানদের সহায়তা করার কথা স্বীকার করার পর এটা করা হয়।
তবে তা বিদেশে অবস্থানরত ৭৬ লাখ আমেরিকানের জীবন কঠিন করে ফেলছে বলে সিএনএন মানির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

শেয়ার