শেষ বুলেট পর্যন্ত লড়ার নির্দেশ সিইসির

CEC
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপি রোধে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।

ভোট সামনে রেখে বৃহস্পতিবার আইন-শৃঙ্খলা বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, সন্ত্রাসীদের রুখতে ‘প্রয়োজনে গুলি ব্যবহারের’ ক্ষমতার বিষয়টি তিনি আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ।

“ভোট কেন্দ্র দখল, জালভোট ও কারচুপি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। আমি বলে দিয়েছি-এ ধরনের কিছু ঘটলে শেষ বুলেট পর্যন্ত আইন- শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা তা প্রতিহত করবে।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড, সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের প্রশাসন এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরের এনইসি মিলনায়তনে এ বৈঠক করেন সিইসি।

তিনি বলেন, যারা কেন্দ্র দখল করে রাতে কারচুপি করে, দিনে জালভোট দেয়- তারা ‘কোনো দলের নয়, তারা সন্ত্রাসী’।

“তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে প্রতিটি সদস্যকে বলে দিয়েছি। অস্ত্রধারী সদস্যরা তা প্রতিরোধ করবে।”

এ ধরনের ক্ষেত্রে পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সিইসি জানান, আইনেই তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

“পুলিশের দায়িত্বে সব বলা রয়েছে। অস্ত্র হাতে থাকলে তাদের কী দায়িত্ব, তা আইনে বলা রয়েছে- কীভাবে ব্যবহার করবে। এটার (গুলি চালানোর) নির্দেশ দেওয়া লাগে না। প্রয়োজন বোধে এর ব্যবহার করতে হবে- পরিষ্কারভাবে আইনে বলা রয়েছে।”

কাজী রকিবউদ্দীন নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসির অধনে অনুষ্ঠিত বিগত নির্বাচনগুলোতে বিক্ষিপ্ত জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখলের ঘটনা তুলে ধরে বিএনপি বলে আসছে, এবারও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে তারা ভরসা রাখতে পারছে না।

পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পুলিশের হয়রানি ও ক্ষমতাসীনদের বাধায় ৭০টি ইউপিতে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করে আসছেন দলটির নেতারা।

এর জবাবে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি আসলে প্রার্থী পাচ্ছে না। এই দৈন্যদশা ঢাকতে তারা ক্ষমতাসীনদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

দেশের চার হাজার ২০০ ইউনিয়নে এবার ছয় ধাপে ভোট হচ্ছে। ২২ মার্চ প্রথম ধাপে ৭৩৪ ইউনিয়নে ভোট হবে।

চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আইন-শৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার