উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা

nort

সমাজের কথা ডেস্ক॥ পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার উপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাতিসংঘ। বুধবার উত্তর কোরিয়ার মিত্র চীনসহ নিরাপত্তা পরিষদের সবগুলো সদস্য রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।
নতুন এই নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে বাধাগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের বিরাজমান নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ৬ জানুয়ারি পরমাণু বোমার পরীক্ষা ও ৭ ফেব্রুয়ারি রকেট উৎক্ষেপণ করে উত্তর কোরিয়া। রকেট উৎক্ষেপণে দেশটি নিষিদ্ধ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর।
সব অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবে বিরাজমান নিষেধাজ্ঞার আওতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তবে রকেট উৎক্ষেপণকে শান্তিপূর্ণ কৃত্রিম উপগ্রহের উৎক্ষেপণ বলে দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া।
দুই দশকে যে কোনো দেশের উপর আরোপিত জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থেকে এই নিষেধাজ্ঞাটি অনেক কঠোর বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সামান্থা পাওয়ার। নতুন এই নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়া পরমাণু ও নিষিদ্ধ অন্যান্য অস্ত্র কর্মসূচির জন্য তহবিল যোগাড় করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিরাপত্তা পরিষদের দুজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত নতুন এই নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকেও অনেক কঠোর।
নিজেদের উপর আরোপিত জাতিসংঘের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণেই ইরান পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করে বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে বাধ্য হয়। ওই নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়েছিল।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে উত্তর কোরিয়ামুখি এবং দেশটি থেকে বের হওয়া সব মালবাহী যানকে পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সিরিয়া, ইরান ও ভিয়েতনামে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যিক প্রতিনিধিসহ ১৬ জনকে নতুন করে কালো-তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার ১২টি প্রতিষ্ঠানকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞায় দেশটির সন্দেহভাজন মালবাহী যানগুলোকেই শুধু পরীক্ষা করা হতো।
নতুন এই কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার জাতিসংঘ মিশন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞাটিকে উত্তর কোরিয়ার ‘সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম অবমাননা ও মারাত্মক চ্যালেঞ্জ’ বলে উল্লেখ করেছে।

শেয়ার