শুধু শহরই নয়, তৃণমূলেও উন্নয়ন করেছি : প্রধানমন্ত্রী

has

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ‘আমরা কেবল শহর কেন্দ্রীক নয়, তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আমরা পুরো বাংলাদেশে উন্নয়ন করতে চাই। ৫ হাজার ২৬৫ ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে, ডিজিটাল কেন্দ্র করে দেওয়া হয়েছে ৮ হাজার পোস্ট অফিসকেও। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষতা বাড়ছে।’
বুধবার (০২ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ব্যুরো ও পরিসংখ্যানের (বেনবেইস) উদ্যোগে নির্মিত ১২৫ উজেলায় আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন (ইউআইটিআরসিই) এর উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তিতে সরকারের নেওয়া নানা উন্নয়ন কর্মকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নানা উদ্যোগের কারণে এখন একটি ছেলে, একটি মেয়ে উদ্যোক্তা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে তারা।

‘কেউ গৃহহারা থাকবে না। শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি শিক্ষা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দেওয়া হচ্ছে। স্কুলমুখী হওয়ার কারণে প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার কমেছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও সহায়তা দিচ্ছি।’

তথ্যপ্রযুক্তির নানা উপকারী দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন মোবাইল হাতে হাতে, ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৩ কোটি সিম ব্যবহার করছে। মোবাইলে বাংলা কন্টেন্ট চালু করা হয়েছে। এতে যাদের অক্ষর জ্ঞান ছিলো না, তারাও যোগাযোগ করার জন্য অক্ষর জ্ঞান অর্জন করে নিচ্ছে।

‘আমরা রাজধানীকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন করতে চাই না। শুধু শহরেই নয়, গ্রাম পর্যায়েও সমান উন্নয়ন করতে চাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি শুধু দৈনন্দিন কাজই নয়, বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে ও দুর্নীতিমুক্ত করতে ডিজিটালাইজড করা দরকার-বলেছিল আমার ছেলে সজীব। তার পরামর্শেই প্রযুক্তির উন্নয়নে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

‘আমরা যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিই, তখন লোকে ঠাট্টা করতো। কিন্তু এখন প্রমাণ হয়েছে। গ্রামীণ পর্যায়ে স্থাপিত ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে তারা উপকৃত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, বিজ্ঞান বিষয় পড়ার ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষার্থীদের অনীহা ছিলো! আমরা পরিকল্পনা করি বিশ্ববিদ্যালয় করবো নাম হবে-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১২৫টি উপজেলায় ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার স্থাপনে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন বিষয় ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট নির্মাণের কাজ চলছে।

এছাড়া শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। স্থানীয় নাগরিকদের একসেস টু ইনফরমেশন নিশ্চিত করা হবে। এজন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও।

ভবিষ্যতে উপগ্রহ স্থাপন করা হলে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্গম এলাকা যেখানে কেউ চিন্তা করতে পারেনি ইন্টারনেট সার্ভিস থাকতে পারে। এমন সমৃদ্ধ তথ্য বাতায়ন আর কোথাও নেই, যা আমরা করে দিয়েছি।

শেয়ার