যশোরে ৩৩০ শিক্ষক পদের বিপরীতে এবার বেসরকারি নিবন্ধনে উত্তীর্ণ ১৪৬৬ জন ॥ ১১৩৬ জনকে শুধু সনদ নিয়েই সন্তষ্ট থাকতে হবে

sikkhok niog
রুহুল আমিন॥
১২তম বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ নিবন্ধন পরীক্ষায় যশোর জেলায় ১৪শ’ ৬৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এরাসহ পূর্বে উত্তীর্ণদের মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে নিয়োগ দেবেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এজেলায় শিক্ষকের পদ খালি আছে মাত্র ৩শ’ ৩০টি। ফলে পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের আবারও স্বপ্ন ভঙ্গ হতে চলেছে। প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ, পরীক্ষায় উত্তীর্ণসহ নানা কষ্টের শ্রম তাদের ‘বিফলে’ যেতে বসেছে।
সূত্র মতে, যশোর জেলায় ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ১৪শ’ ৬৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এনটিআরসিএ চলতি বছরের ১৮ ফ্রেরুয়ারি পাশকৃতদের সার্টিফিকেট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে পাঠিয়ে দেয়। যশোর জেলায় শিক্ষক নিবন্ধনে পাশকৃত ১৪শ’ ৬৬ জনের মধ্যে অভয়নগরে রয়েছে ১শ’৩৬ জন, বাঘারপাড়ায় রয়েছে ১শ’১৮ জন, চৌগাছায় রয়েছে ১শ’২৩ জন, সদরে ১শ’৪১ জন, ঝিকরগাছায় রয়েছে ১শ’৫৭ জন, কেশবপুরে রয়েছে ১শ’৮১ জন, মণিরামপুরে রয়েছে ৩শ’২৮ জন, শার্শায় রয়েছে ১শ’৫৭ জন। ১৪শ’ ৬৬ জনের বিপরীতে জেলার বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষকের পদ খালি আছে মাত্র ৩শ’ ৩০টি আসনে। এরমধ্যে স্কুল পর্যায়ে খালি রয়েছে ১শ’ ৪১টি আসন, কলেজ পর্যায়ে খালি রয়েছে মাত্র ৪৭টি আসন। আর মাদ্রাসা ইফতেদায়ী পর্যায়ে খালি রয়েছে ২৬ টি আসন, দাখিল পর্যায়ে রয়েছে ৭০টি আসন এবং আলিম, ফাজিল, কামিল পর্যায়ে খালি রয়েছে ১৯টি আসন। অন্যদিকে, ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় খালি রয়েছে ১১টি আসন ও কারিগরি শিক্ষায় খালি রয়েছে ১৬ টি আসন। কিন্তু আসনের বিপরীতে চারগুণের বেশি শিক্ষার্থী সর্বশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে ১১শ’ ৩৬ শিক্ষার্থীর শুধু সনদ নিয়েই সন্তষ্ট থাকতে হবে।
উত্তীর্ণদের অনেকে জানান, বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পাশ করার পরও নিয়োগ নিয়ে চরম টানা হেঁচড়ার শিকার হচ্ছেন আনার্স, মাস্টার্স পাশকৃত শিক্ষার্থীরা। ফলে শিক্ষক হতে যেয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন নিবন্ধনধারী। কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র নিবন্ধন পরীক্ষা সম্পন্ন ও ফলাফল প্রকাশ করেই তাদের দায়িত্ব শেষ করছে। পাশকৃতদের কিভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে তার প্রসেসিং এখনও শুরু হয়নি। এই নিবন্ধনধারী আদৌও শিক্ষক হতে পারবে কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম টুকু বলেন, নিবন্ধনধারীদের মেধাক্রমের তালিকা আমরা হাতে পেয়েছে। মেধাক্রমের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ হলেই নিয়োগ দেওয়া সম্ভব। এখনও পর্যন্ত নিয়োগের বিষয়ের সরকারের কোন নির্দেশনা নেই। সরকারের যে নির্দেশনা থাকবে সেই অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

শেয়ার