শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা অনিয়ম॥ সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ক্লিনিক নিয়ে ব্যস্ত অধিকাংশ চিকিৎসক

soron
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥ বাগেরহাটের শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার, নার্সসহ জনবল বাড়লেও বাড়ছে না সেবার মান। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী সেবাদানে আন্তরিক না। অধিকাংশ চিকিৎসক অর্থ-বাণিজ্যে লিপ্ত থাকায় সরকারি নির্দেশ পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে অধিকাংশ চিকিৎসক ক্লিনিক নিয়ে ব্যস্ত থাকছেন। যেকারণে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়া মানুষের মধ্যে ক্ষোভের দানা বেধে উঠছে।
সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানাযায়, ৮০’র দশকে উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রায়েন্দা এলাকায় ১৬ বিঘা জমির উপর ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপন করেন তৎকালীন সরকার। তবে শুরু থেকেই শয্যা ও জনবল সংকট ছিল প্রকট। ২০১২ সালের ১৩ মার্চ ৫০ শয্যায় উন্নীত করে নবনির্মিত আরেকটি আদালা ভবনের উদ্বোধন করেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন। দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে বিনামূল্যে স্বাস্থসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নিত করার পাশাপাশি পূর্বের চেয়ে জনবল বাড়ানো হয়। প্রায় দু’লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে সরকার আন্তরিক হলেও আন্তরিক হচ্ছেন না কর্মরতরা। সুত্রমতে, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও প্যাথালজিক্যাল (পরিক্ষাগার) বন্ধ থাকায় প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনসাধারণ। তাছাড়া হাসপাতালটিতে রয়েছে নানা অব্যবস্থাপনা। বিদ্যুতের লোডশেডিং হলে বিকল্প আলো থাকে না হাসপাতালে। রোগীর নিজ নিজ খরচে মোমবাতি জ্বালিয়ে কাজকর্ম সারতে হয়। জ্বর, মাথা ব্যাথা, গ্যাষ্টিক ও আমাশয়সহ নামমাত্র কিছু ওষুধ ছাড়া বাকি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। এদিতে সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ অসিম কুমার সমাদ্দারসহ অধিকাংশ চিকিৎসক বিভিন্ন ক্লিনিকে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গলা কাটা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। দিনে সর্বোচ্চ ২/১ ঘন্টা সময় দেন সরকারি হাসপাতালে। এছাড়া প্রায় সময় ব্যস্ত থাকেন ক্লিনিকে। পরিচয় গোনপ রাখার শর্তে, হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ জানান, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ প্রায় সব চিকিৎসকরাই বহিরাগত রোগীসহ অন্য রোগীদের প্রথমে টেষ্ট (পরিক্ষা-নিরিক্ষা) করার জন্য বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠিয়ে কমিশন নেন। পরবর্তীতে অর্থের বিনিময় ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন তারা। অপরদিকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সম্প্রতি স্যাম্পলের নামে লক্ষাধিক টাকার ঔষুধ খুলনার একটি প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করেছেন বলে চাউর হয়েছে। উপজেলার উত্তর কদমতলা এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, হাসপাতালে জরুরি বিভাগসহ সকল বিভাগেই অর্থের বিনিময় সেবা নিতে হয়। অন্যথায় কর্তব্যরত ব্যক্তিরা নানা তালবাহানা করেন। সম্প্রতি তিনি তার ভাইয়ের শিশু পুত্রকে সুন্নাতে খতনা করাতে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত এক উপ-স্বাস্থ্য সহকারী হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে তাকে ৫’শ টাকা দিয়ে কাজ সারেন। তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীণ বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যকর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার। তিনি জানান, সুবিধা চক্রের সদস্যরা অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।

শেয়ার