নিজস্ব ক্যাম্পাসে কবে যাবে যশোর মেডিকেল কলেজ

medical collage
এস হাসমী সাজু ॥
প্রায় আট বছর আগে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ছয় বছর আগে শুরু হয়েছে ভর্তি কার্যক্রম। এই সময়ে ভবনসহ অবকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সরকার দিয়েছে পর্যাপ্ত বরাদ্দ। যা দিয়ে দুই বছরের বেশি সময় আগে একাডেমিক ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে। কিন্তু সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে এখনও নিজস্ব ক্যাম্পাসে যশোর মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। তাই ক্রয়কৃত কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অকেজো ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় একাধিকবার দাবি জানিয়েও নিজস্ব ক্যাম্পাসের অভাবে ব্যবহারিক জ্ঞান ছাড়াই ডাক্তারি সনদ নিতে বাধ্য হয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। আর চলমান শিক্ষার্থীরা একই দাবিতে আজ বেলা ১১ টায় মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।
যদিও কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আবু হেনা মোহম্মদ মাহাবুব উল মওলা চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ২/৩ মাসের মধ্যে নিজস্ব ভবনে একাডেমিক কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।
যশোর মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে যশোর মেডিকেল কলেজের অনুমোদন পাওয়ার পর ২০০৯ সালে শহরতলীর হরিনা বিলে ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০১০ সালে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাসান ইন্টারন্যাশনাল। ২০১৩ সালের শেষের দিকে ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়। পরে কলেজে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য একটি সাবস্টেশন, পানির পাম্প এবং ছাত্রী হোস্টেল র্নিমাণ কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে এসব নির্মাণ কাজও শেষ হয়েছে। নির্মাণাধীন রয়েছে একটি ছাত্র হোস্টল ভবন।
কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে দুই বছরেরও বেশি সময় আগে কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। তবে কলেজে প্রবেশের প্রধান সড়কটি পাকা না হওয়ায় নির্মিত ভবনে ক্লাস শুরু করা যাচ্ছে না। তবে এরমধ্যে নবনির্মিত ভবন ও ক্যাম্পাসস্থ বেশ কিছু যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় জিনিস নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
যশোর গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম দৈনিক সমাজের কথাকে জানান, দুই বছরের বেশি আগে কলেজের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। তবে এখনো কলেজ কর্তৃপক্ষ ভবনটি বুঝে নেয়নি। এখন ভবনের ডিসটেম্পারে নুনা লাগা শুরু হয়েছে। ব্যবহারের অভাবে ‘নষ্টে’র পথে ২৪টি এসি। ‘ত্রুটি’ দেখা গেছে লিফটেও। বিদ্যুতের যন্ত্রাংশও ‘নষ্ট’ হওয়ার উপক্রম। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাসান ইন্টারন্যাশনালের কাজ তদারকিতে নিয়োজিত ইকতিয়ার আহম্মেদ কালুও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
মেডিকেল কলেজের হিসাবরক্ষক জয়নাল আবেদিন জানান, ২০১০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ৫৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ইন্টার্নিসহ ছয়টি ব্যাচে মোট সাড়ে চারশ শিক্ষার্থী রয়েছে। নিজস্ব ভবন না থাকায় অস্থায়ী ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হচ্ছে। তবে ভবনের অভাবে কোটি কোটি টাকার আধুনিক মেশিন ও উন্নত যন্ত্রপাতি স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রাকটিক্যাল ক্লাসের অভাবে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এমন ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা গত কয়েক বছরে একাধিকবার নিজস্ব ক্যাম্পাসে তাদের লেখাপড়ার কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন। আশ্বাসও পেয়েছেন তারা। কিন্তু সরকারের আন্তরিকতা থাকার পরেও বাস্তবে নিজস্ব ক্যাম্পাস ছাড়াই তাদের ডাক্তারি সনদ নিতে হয়েছে। আর বর্তমান শিক্ষার্থীরা সেই পুরোনো দাবিতে আবার আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আজ তারা যশোর শহরের দড়াটানা মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আবু হেনা মোহম্মদ মাহাবুব উল মাওলা চৌধুরী দৈনিক সমাজের কথাকে জানান, মূলত সংযোগ সড়কের অভাবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যশোর মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। সড়ক নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। আগামী ২/১ মাসের মধ্যে রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ হলে নিজস্ব ভবনে একাডেমিক কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।

শেয়ার