তামাক চাষ বন্ধে কৃষককে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ

tamak

সমাজের কথা ডেস্ক॥ তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের লাগাম টানতে কৃষকদের ভর্তুকি এবং ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স বন্ধ করাসহ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়ে হাই কোর্টের ১৬ বছর আগের রায়টি বহাল থাকল।
হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঙ্গলবার খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে থাকা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল বলেন, “আপিল খারিজ করে দিয়ে আপিল বিভাগ বলেছেন- হাই কোর্টের দেওয়া ছয় দফা নির্দেশনার সঙ্গে আরও কিছু নির্দেশনা দেবে।”
মামলার বিবরণে জানা যায়, তামাকজাত সামগ্রী বিপণন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রণীত ১৯৮৮ সালের আইনের বাস্তবায়ন চেয়ে ১৯৯৯ সালে পৃথক রিট করেন ‘আমরা ধূমপান নিবারণ করি’ (আধূনিক) এর সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশনের সভাপতি নুর মোহাম্মদ।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরই হাই কোর্ট রুল দেয়, যাতে তামাকজাত সামগ্রী বিপণন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রণীত ১৯৮৮ সালের আইন বাস্তবায়নে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।
রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম (সাবেক প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার (বর্তমানে আপিল বিভাগে কর্মরত) হাই কোর্ট বেঞ্চ রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে কয়েক দফা নির্দেশনাসহ রায় দেয়।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক জানান, হাই কোর্টের দেওয়া ওই রায়ের নির্দেশনায় বলা হয়, কৃষকদের ভর্তুকি দিতে হবে, যাতে করে তারা তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন না করে। তামাকজাত দ্রব্য প্রক্রিয়াজাতকরণের লাইসেন্স বন্ধ করা ও লাইসেন্স নেওয়া নিরুৎসাহিত করতে হবে।
এছাড়া তামাকজাত দ্রব্য আমদানি বন্ধ, তামাকজাত দ্রব্য আমদানিতে উচ্চ কর আরোপ এবং সচেতনতার জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রমোশনাল ভয়েস বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পাবলিক প্লেসে ধূমপান করা যাবে না বলেও আদালতের নির্দেশনা আসে।
হাই কোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুরের পর ২০০১ সালে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়মিত আপিল করে, যা মঙ্গলবার শুনানির জন্য ওঠে। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, হাই কোর্টের ওই রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য আইন প্রণয়ন করতে হবে- এমন যুক্তিতে আপিল করা হয়।
তবে ১৯৮৮ সালের তামাকজাত সামগ্রী বিপণন (নিয়ন্ত্রণ) আইন রহিত করে ২০০৫ সালের ১৫ মার্চ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন করা হয়।

শেয়ার