গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ৩৬৮৪ কোটি টাকা

road
সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রত্যন্ত এলাকার সড়ক উন্নয়নে ‘গ্রামীণ রাস্তায় ছোট ছোট সেতু/কালভার্ট নির্মাণ‘ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। “আগামীতে দেশে আর কোনো বাঁশের সাঁকো থাকবে না। আমরা এ জন্য এ প্রকল্পটি নিয়েছি,” বলেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভার পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “দেশে প্রান্তিক পর্যায়ে ব্যাপক হারে সেতু, কালভার্ট নির্মাণে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা।” দেশজুড়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালে এই প্রকল্পটি অনুমোদন হলেও তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই বলে পরিকল্পনামন্ত্রী মনে করছেন।
“এটি একটি জাতীয় প্রকল্প। কোনো বিশেষ এলাকার জন্য নয়। যেসব স্থানে নির্বাচন চলবে সেসব স্থানে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে না। নির্বাচনের পরে যাতে কাজ শুরু যায় সেভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। তাই নির্বাচনী আইনের সঙ্গে এটি সাংঘর্ষিক নয়।”
এই প্রকল্পটি গ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, ৬৪ জেলার মোট ৪৮৯ উপজেলায় গ্রামীণ রাস্তায় প্রয়োজন অনুযায়ী সেতু/কালভার্ট না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যাসহ দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ে।
গ্রামীণ জনপদে এই রকম কালভার্ট তৈরি এবং সড়ক উন্নয়নে প্রকল্প নিয়েছে একনেক গ্রামীণ জনপদে এই রকম কালভার্ট তৈরি এবং সড়ক উন্নয়নে প্রকল্প নিয়েছে একনেক
“এছাড়াও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে যাতায়াতেও সমস্যা হয়। সেতু-কালভার্ট না থাকার কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষ ও গবাদি পশু দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরেও সমস্যা সৃষ্টি হয়।”
এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে মাটির রাস্তার মোট ১ লাখ ২৯ হাজার ৯২৪ মিটার সেতু-কালভার্ট নির্মণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মঙ্গরবারের বৈঠকে এটিসহ মোট ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ৬ হাজার ৬৫০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান।
এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫ হাজার ৬৯৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৯৫৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।
বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে-উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ব্যয় ১ হাজার ৫৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা), বৃহত্তর রাজশাহী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (ব্যয় ৩৯৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা), ৪টি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প (ব্যয় ২৭৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা)।
সাপোর্ট টু জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভূলতা-মদনপুর সড়ক (ঢাকা বাইপাস) পিপিপি প্রকল্প (ব্যয় ২৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা), জাতীয় মহাসড়ক এন-৮ এর ভূরঘাটা-বরিশাল-লেবুখালী সেতু পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প (ব্যয় ১০৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা)।
মাদারীপুরে সরকারি অফিসগুলোর জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প (ব্যয় ৫৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা), জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স স্থাপন প্রকল্প (ব্যয় ২২৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা), জাতীয় ল্যাবরেটরি মেডিসিন ও রেফারেল সেন্টার স্থাপন প্রকল্প (ব্যয় ১৯৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প (ব্যয় ১৫১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা)।
লালকুঠি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অসম্পূর্ণ কাজ সমাপ্তকরণ প্রকল্প (ব্যয় ৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকা), দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে (বরিশাল ও পটুয়াখালী) ব্রীজ বর্ধন খামার স্থাপন প্রকল্প (ব্যয় ২১২ কোটি ৪১ লাখ টাকা)।

শেয়ার