কর ফাঁকিবাজদের ধরতে মাঠে নামছে এনবিআর

rajosso
সমাজের কথা ডেস্ক॥ কর ফাঁকি রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দলকে (সিআইসি) সারাদেশে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান।
মঙ্গলবার চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কর্মকৌশল এবং জানুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব সংগ্রহ সংক্রান্ত অগ্রগতি ও পর্যালোচনা বিষয়ক মাসিক রাজস্ব সভায় চেয়ারম্যান এ নির্দেশ দেন বলে এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সারাদেশে যে সব অসৎ ব্যবসায়ী রাজস্ব ফাঁকি, মুদ্রাপাচার ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সেজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর এবং মূসক গোয়েন্দা অধিদপ্তরসহ সরকারের অন্যান্য সংস্থা- মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনার কথা বলেন তিনি।
“এক্ষেত্রে পুনর্গঠিত চোরাচালান নিরোধ কেন্দ্রীয় টাস্কর্ফোসকে অবহিতকরণপূর্বক অন্যান্য সকল সংস্থার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
কমিশনারদের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থাকার পাশাপাশি অধীনস্থ সব দপ্তর নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকির নির্দেশ দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের সদস্য, বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মাঠ পর্যায়ের কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের রাজস্ব বাড়াতে এনবিআরের নানামুখী উদ্যোগের পাশাপাশি চোরাচালান নিরোধ কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে নজিবুর রহমান বলেন, এনবিআরের মাঠ পর্যায়ে আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের কমিশনারদের চোরাচালান নিরোধে পুনর্গঠিত টাস্কফোর্স এর কার্যক্রম নতুন উদ্যমে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে হবে।

টাস্কফোর্সের কার্যক্রম গতিশীল ও বেগবান করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে পারস্পরিক সহযোগিতা, নিয়মিত যোগাযোগ ও টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেন এনবিআর প্রধান।
এছাড়া বিভাগীয় কমিশনারদের নেতৃত্বে আঞ্চলিক পর্যায়ে চোরাচালান নিরোধে টাস্কফোর্সের কার্যক্রম ফলপ্রসূ করতে সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলার প্রতিনিধিদের যোগদান নিশ্চিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। রাজস্ব আদায় বাড়াতে এনবিআর নানামুখী পদক্ষেপ নিলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার কোটি টাকা কম হয়েছে।
এত বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কার্যত অসম্ভব বলে মন্তব্য এসেছে অর্থনীতিবিদদের কাছ থেকে।
এই সাত মাসে ৯১ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭৯ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। তবে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারির চেয়ে রাজস্ব আদায়ে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

শেয়ার