সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ॥ ‘আংকেল আম্মুকে মেরে ফ্যানে ঝুলিয়ে বেরিয়ে যায়’ প্রত্যক্ষদর্শী শিশুপুত্র রাদ

oniom durniti
আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা॥ ‘আম্মু ও আংকেল ঝগড়া করছিল। এরমধ্যে আম্মুকে আংকেল লাঠি দিয়ে মারতে থাকে। দা দিয়েও মারে। কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। আমি ভয়ে পাশের ঘরে ছিলাম। কিছুক্ষণ পর শব্দ বন্ধ হয়ে যায়। দেখি আংকেল আম্মুকে খাটের উপর তোলে। খাটের উপর একটা চেয়ার তুলে তাতে বসানো হয় আম্মুকে। পরে সিলিং ফ্যানে আম্মুকে ঝুলিয়ে দিয়ে চেয়ারটি লাথি মেরে ফেলে দেয় আংকেল। এরপরই আংকেল বাথরুমের পাশের দরজা দিয়ে বেরিয়ে চলে যায়। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে বিচার চাইতে এসে মাকে হত্যার দৃশ্য এভাবেই গণমাধ্যমের সামনে বর্ণনা দিল ৭ বছরের শিশু রাদ। রাদ সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার বহেরা গ্রামে সম্প্রতি হত্যার শিকার শাহানা রেজা কেয়ার ছোট ছেলে। মা হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী শিশু রাদ তোতা পাখির মতোই এসব কথা বলছিল। ও হয়তো জানে না মা আর কোনদিন ফিরে আসবে না। আদর যতœ করবে না।
রোববার দুপুরে শাহানা রেজা কেয়া হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিহত শাহানা রেজা কেয়ার স্বজনরা। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহানা রেজা কেয়ার বড় ভাই সেলিম রেজা সবুজ। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার বোনের প্রথমে ভারতে বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায়। প্রায় ৬ বছর আগে আমার বোন দুই ছেলেকে নিয়ে দেশে চলে আসে। এরপর থেকে সে কুলিয়া এলাকায় ব্যবসা করে জীবনযাপন করছিল। তার ধন-সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্য নিয়ে ৬ মাস আগে দেবহাটার পারুলিয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের মৃত খলিল মিস্ত্রির ছেলে আনারুল ইসলাম তাকে নানাভাবে প্রভাবিত করে বিয়ে করে। এরপর বোনের সম্পত্তি নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেখে থাকতো। এরই সূত্র ধরে তাকে হত্যা করে আনারুল ইসলাম পালিয়ে গেছে। তিনি জানান, তার বোনের ৮৫ লক্ষ টাকা বাজারে ছড়িয়ে রয়েছে। হত্যার আগে আনারুল শাহানা রেজা কেয়ার অবর্তমানে ওই টাকা আদায়ের দায়িত্ব নিজ নামে লিখে নেয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, হত্যাকারী আনারুল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদের ভাগ্নে হওয়ায় পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে। আমরা দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পাচ্ছি না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বোনকে হত্যার ঘটনায় হত্যাকারী আনারুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় শাহানার রেজা কেয়ার বড় ছেলে সাদ, ছোট ছেলে রাদ ও প্রতিবেশিরা উপস্থিত ছিলেন। সচেতন মহল মনে করেন, খুনি কার ভাগ্নে কার আতœীয় তা দেখার বিষয় না। অপরাধীর শাস্তি হবে এটাই নিয়ম। সরকারের উপরিমহল নিশ্চয় ব্যবস্থা নেবে। বাধাদান এবং পুলিশের গড়িমশির সত্যতা মিললে প্রয়োজনে আন্দোলন করে বিচার নিশ্চিত করা হবে। এ ব্যাপারে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসারও আহবান জানানো হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর জামায়াতি তান্ডব

শেয়ার