বিদ্রোহে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে কোস্টগার্ড বিল পাস

Coast guard logo

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কোনো সদস্য বাহিনীর অভ্যন্তরে বিদ্রোহের প্ররোচনা বা সূচনা করলে, অংশ নিলে এবং বিদ্রোহে অবস্থান করে তা দমনের ব্যবস্থা না নিলে কোস্টগার্ড আদালতে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত বা অন্য কোনো আইনের অধীনে লঘুদন্ডে দন্ডিত হবেন।
এই বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বিল-২০১৬’ সোমবার জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বিলটি আইনে পরিণত হলে বিদ্যমান কোস্টগার্ড আইন-১৯৯৪ বাতিল হয়ে যাবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। পরে সেটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
গত ২৫ জানুয়ারি বিলটি সংসদে তুলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল।
নতুন আইন অনুযায়ী, কোস্টগার্ড বাহিনীতে একজন মহাপরিচালকসহ মোট ২১টি পদ থাকবে।
বাহিনীর কাজ হবে বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদকদ্রব্য, চোরাচালানরোধ, অবৈধ মৎস্য আহরণ ইত্যাদি রোধ করা।
যুদ্ধাবস্থা বা অন্য কোনো বিশেষ প্রয়োজনে কোস্টগার্ডকে সহায়তা করার জন্য সরকার কাউকে তলব করে নিয়োজিত করলে নিয়োজিত অবস্থায় ওই ব্যক্তি কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা বা সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। নিয়োজিত অবস্থায় কোনো ব্যক্তি চাকরির শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নতুন আইনে কোনো ব্যক্তি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দাপ্তরিক কাজে বাধা দিলে, কর্মকর্তাকে হুমকি দিলে বা তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করলে ১৪ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন।
বাহিনীর কোনো সদস্য জুয়া খেললে বা মাতাল আচরণ করলে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন। কোনো ব্যক্তি মিথ্যা জেনেও অন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ আনলে সেই ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য স্পেশাল কোস্টগার্ড আদালত, স্পেশাল সামারি কোস্টগার্ড আদালত ও সামারি কোস্টগার্ড আদালত নামের তিনটি আদালত থাকবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যমান আইনটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। যে কারণে কোস্টগার্ড বাহিনীকে বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। তাই আইনটি নতুন করে প্রণয়ন করা দরকার।”

১৯৯৪ সালে সংসদে বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে কোস্টগার্ড আইন করা হয়।
তৎকালীন সরকারি দল বিএনপি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি বাতিলের প্রস্তাব করলে বিরোধী দল আওয়ামী লীগ তাতে আপত্তি জানায়।
শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলীয় সদস্যদের ভোটে বিলটি পাস হয়েছিল। ওই দিন সংসদে সরকারি দলের সদস্যদের চেয়ে বিরোধী দলীয় সদস্যদের উপস্থিতি বেশি ছিল।

শেয়ার