‘বাংলাদেশের আকাশে অনুপ্রবেশের শাস্তি ৭ বছর কারাদণ্ড’

malay
সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিমান নিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে সর্বোচ্চ ৭ বছর সশ্রম কারাদন্ডের সঙ্গে দুই কোটি টাকা জরিমানা গুণতে হবে।
এছাড়া বিপজ্জনক পদ্ধতিতে বিমান চালনায় কমপক্ষে ৫ বছর কারাদন্ড এবং কমপক্ষে এক কোটি টাকা অর্থদন্ডের বিধান রেখে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল আইন ২০১৬’ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে খসড়াটি অনুমোদন পায়। সংসদে পাস হলে নতুন আইন কার্যকর হবে।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, “এই আইন হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্টান্ডার্ডে উঠবে।”
১৯৬০ সালের ‘দ্য সিভিল এভিয়েশন অর্ডিন্যান্স’কে বাংলায় ভাষান্তর করে নতুন এই আইন হচ্ছে বলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের নির্দেশনার আলোকে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
“ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানের মাধ্যমে অবৈধভাবে বাংলাদেশের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ বছর ও সর্বনিম্ন ৩ বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং ন্যূনতম দুই কোটি অর্থ দন্ডের বিধান করা হয়েছে।”
বিমান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন আইনে বিপজ্জনক পদ্ধতিতে বিমান পরিচালনার দায়ী ব্যক্তির সাজা বাড়িয়ে অনধিক ৫ বছর কারাদন্ড ও কমপক্ষে এক কোটি টাকা অর্থদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিপজ্জনক পদ্ধতিতে বিমান পরিচালনার দায়ে আগে এক বছরের জেল এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ডের বিধান ছিল।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “নতুন আইনে সরকারের বিধি প্রণয়নের ক্ষেত্রকে সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিমান দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।”
বিমান মন্ত্রণালয়ও বলছে, বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের বিধি প্রণয়নের ক্ষেত্রকে সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
“যেমন- ফ্লাইটে নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিয়োগের বিধান, বিমান দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি এবং তার পরিবারকে সহায়তা দেওয়া, বেসামরিক বিমান হিসাবে রাষ্ট্রীয় বিমানের ব্যবহার, বেসামরিক বিমান চলাচল ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য বেআইনি আচরণের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা দেওয়া, বেসামরিক বিমান পরিবহনে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার নিয়ন্ত্রণ।”
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিদেশে থেকে বিমান লিজের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হলে অথবা বাংলাদেশ থেকে বিমান লিজের মাধ্যমে অন্য দেশে ব্যবহৃত হলে নতুন আইনে ওই বিমানের ‘সেফটি’ ও ‘রেসপন্সবিলিটি’ নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৬০ সালের অধ্যাদেশে ১৯টি ধারা থাকলেও প্রস্তাবিত আইনে ধারার সংখ্যা ৪৪টি।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ইন্সপেক্টরকে দিয়ে বাংলাদেশের যে কোনো এয়ারলাইন্স, অপারেটর, অন্যান্য সেবা প্রদানকারী সংস্থার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নতুন ধারা যোগ করা হয়েছে।

শেয়ার