এইডস গুজবে শ্রীলঙ্কায় লঙ্কাকাণ্ড

srilong

সমাজের কথা ডেস্ক॥ স্কুলের এক শিক্ষার্থী মরণঘাতি রোগ এইডসে আক্রান্ত- এমন গুজবের ভিত্তিতে স্কুলটি থেকে সন্তানদের ভর্তি বাতিল করেছেন অভিভাবকরা। স্কুলটিতে এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র একজন। যার নামে গুজবটি রটেছে সেই শুধু স্কুলটিতে রয়ে গেছে। কারণ অন্য স্কুলগুলোও তাকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
যে শিক্ষার্থীর এইডস আছে বলে গুজব রটেছে, সে এইডসে আক্রন্ত নয়- চিকিৎসকদের কাছ থেকে এমন সনদ এনে দেয়ার পরও অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের স্কুলটি থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।
গত সপ্তাহে ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীলঙ্কার কুরুনেগেলা স্কুলে। সেখানকার ছয় বছরের এক ছাত্রের বাবা এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অন্যরা ধারণা করে, ওই ছেলেও এইডসে আক্রান্ত। অন্য স্কুলগুলোও ছাত্রটিকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়।
তার মা জানিয়েছেন, তার স্বামীর এইডসে মৃত্যু হয়েছে বলে একটি অপপ্রচার রটানো হয়। এতে সন্দেহ করা হয় তার ছেলেও রোগটিতে আক্রান্ত। আর এ কারণে অন্য স্কুলগুলোও তাকে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেয়নি।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এইডস বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করে তুলতে তারা একটি সভা আয়োজন করার চেষ্টা করছেন। ছেলেটির মা চাদনি দে সয়সা বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে ভর্তি করানোর জন্য কয়েকবার চেষ্টা করেছি। তবে তারা তাদের এইডস ভীতির কারণে আমার বাচ্চাটিকে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেয়নি।’
এর আগেও একই কারণে অনেক স্কুল ওই শিক্ষার্থীকে তাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে রাজি না হওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে আসলে শ্রীলঙ্কার শিক্ষামন্ত্রণালয় তাকে ভর্তি করতে একটি স্কুলকে নির্দেশ দেয়। ভর্তি হওয়ার সময় ওই শিক্ষার্থী এইডসে আক্রান্ত নয়- এমন সনদ দেয়ার পরও তাকে স্কুল থেকে সরিয়ে নিতে অন্য অভিভাবকরা তার মা চাদনিকে চাপ দিতে থাকে।
চাদনি বলেন, ‘প্রথমে ও ক্লাসে যেত। অন্য শিশুদের মতোই খেলাধুলা করত। হঠাৎ করেই একদিন অন্য অভিভাবকরা স্কুলে এসে তাদের সন্তানদের ভর্তি বাতিল করেন।’
শিক্ষার্থীটির একজন শিক্ষক জানান, যখন তার ছাত্র তাকে জিজ্ঞেস করে, ওরা কেন আমার কারণে স্কুল ছেড়ে চলে যাচ্ছে, এখানে পুলিশ কেন এসেছে, তখন বাচ্চাটির জন্য তার খুব দুঃখবোধ হতো।
শ্রীলঙ্কার শিক্ষাবিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক সামান ওইজেসেকারা জানান, সমস্যাটি সমাধান করতে এইডস বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে একটি শিক্ষামূলক সেমিনার আয়োজন করা হবে।
উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কাতে এইডসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা খুবই কম। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০১৪ সালে দেশটিতে এইডস আক্রান্ত প্রাপ্ত বয়স্কদের সংখ্যা ছিল তিন হাজার দুইশ জন। আর শিশুর সংখ্যা ১০০ জন। তাদের মোট সংখ্যা শ্রীলঙ্কার জনসংখ্যার ০.১ শতাংশের চেয়েও কম।
তবে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে অকারণেই লোকজন এটি নিয়ে শঙ্কায় থাকে। এজন্য অনেক সময় অনেকের প্রতি বৈষম্যও প্রদর্শন করা হয়।

শেয়ার