ভোমরা বন্দরে থামছে না জালিয়াত চক্রের চোরাকারবারী ব্যবসা ॥ বিজিবি’র অভিযানে ধরা পড়লো ৬ কোটি টাকার গ্রানাইড স্লাব॥ কিছুই জানে কাস্টমস বিভাগ !

vomra
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা॥ নকল এলসিসহ যাবতীয় কাগজপত্রে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে আমদানিকৃত ৬ কোটি টাকা মুল্যের ৭৮ টন ভারতীয় গ্যালাক্সি গ্রানাইড স্লাব মার্বেল পাথর জব্দ করেছে বিজিবি। এসব মার্বেল পাথর ভোমরা বন্দর দিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ হলেও একটি জালিয়াতচক্র সুপরিকল্পিতভাবে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দেদারছে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এর জন্য প্রায় ২৪ লাখ টাকার ভ্যাট পরিশোধের যে কাগজপত্র দেখানো হয়েছে তাও জাল বলে জানিয়েছে বিজিবি কর্মকর্তারা। তবে ঘটনার সাথে জড়িতরা এবারও পার পেয়ে গেছে। বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা সটকে পড়েছে দাবি বিজিবি’র।
সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল আরমান হোসেন শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘গত ২৪ ফেব্র“য়ারি ভারতের বশিরহাটের সাইফ এন্টারপ্রাইজ এই গ্রানাইড স্লাব বাংলাদেশে রফতানি করে। ভারতের ঘোজাডাঙ্গা বন্দর পার করে বাংলাদেশের চারটি কাভার্ড ভ্যানে লোড দেয়ার সময় তা ধরা পড়ে। সাড়ে ৭৮ মেট্রিক টন ওজনের এই গ্রানাইড স্লাব আমদানিকারক ঢাকার ২২ পুরানা পল্টনের “একে ট্রেড লাইন লিমিটেড”। খুলনার সিএন্ডএফ “ওভারসিজ ট্রেডিং কর্পোরেশন” এর পক্ষে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল মোজাহার পাম্প এলাকার মৃত রজব আলী নায়েব এর ছেলে কথিত সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম ময়না এই পণ্যের ছাড়কারক ছিলেন। তিনি সিএন্ডএফ এজেন্ট খুলনার ওভারসিজ ট্রেডিং কর্পোরেশনের পক্ষে জাল কাগজপত্র তৈরি করে তা বাংলাদেশে নিয়ে আসার পর শুক্রবার রাতে সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দর এলাকার মধ্যে কাভার্ড ভ্যানে লোড করার সময় বিজিবি সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে এই গ্রানাইড স্লাব জব্দ করে। পরে এলসি সংক্রান্ত যাতীয় কাগজপত্রে জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ে। ওই কাগজপত্রে ভোমরার বন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা মাসুদ রানার ব্যবহৃত সীল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হলেও তিনি এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। জব্দকৃত গ্রানাইডের দাম ৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বলে প্রাথমিকভাবে নির্নয় করা হয়েছে। এমনকি ওভারসীস ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক মিসেস ফিরোজা বেগমও এসব জালিয়াতি সম্পর্কে অবহিত নন বলে জানান। তবে তার লাইসেন্স ব্যবহার করে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল মোজাহার পাম্প এলাকার বাসিন্দা মৃত রজব আলী নায়েব এর ছেলে মনিরুল ইসলাম ময়না নামক কথিত ব্যবসায়ী এই জাল জালিয়াতি করেছেন বলে বিজিবির কাছে গাড়ি চালক স্বীকার করেছেন। এজন্য ভুয়া বিল অব এন্ট্রিও তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রানাইড স্লাব আটক হবার পর থেকে জালচক্রের হোতা মনিরুল ইসলাম ময়না গা ঢাকা দিয়েছেন। বিজিবি জানায় একটি বড় ধরণের জালিয়াত চক্র একাজ করেছে বলে তাদের কাছে খবর রয়েছে। এদিকে ভোমরা বন্দর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, কথিত সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম ময়নার পেছনে রয়েছে “ফাইভ স্টার গ্র“প” নামের বড় ধরণের একটি জালিয়াত চক্র। সেই চক্রটি ইতোপূর্বে বিজিবি’র নামে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা তুলে তা নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। বিজিবি’র নামে চাঁদা উত্তোলন এবং ভাগবাটোয়ারার জেরধরে ভোমরা বন্দরে এখনও পর্যন্ত চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এরই মধ্যে চক্রের অন্যতম সহযোগি মনিরুল ইসলাম ময়নার ফের জালিয়াতির ঘটনায় থমকে যেতে বসেছে ভোমরা বন্দরের চলমান কার্যক্রম। এসব বিষয়ে ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু শনিবার বিকালে গণমাধ্যমকে জানান, এই বন্দরে যে ধরণের পণ্য আমদানির সুযোগ নেই সেই পণ্য অন্য পণ্যের অন্তরালে আমদানি করা অত্যন্ত দূ:খ জনক ঘটনা। এদের জরুরি ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য প্রশাসনকে যেধরণের সহযোগিতা করার প্রয়োজন সেই ধরণের সহযোগিতা সংগঠনের পক্ষ থেকে করা হবে। গ্রানাইড স্লাব আমদানির বিষয়ে ভোমরা কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরিফ মোহা: আল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, ‘কাস্টমসের কাছে এ ধরনের কোন তথ্য নেই। কাগজপত্রের কথা শুনে ও দেখে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে। এর সাথে কাস্টমসের কোনো সম্পর্ক নেই’। তিনি আরও জানান, ভোমরা বন্দর দিয়ে মার্বেল পাথর আমদানির অনুমতি থাকলেও গ্রানাইড স্লাব পাথর আনার কোন অনুমতি এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে এবন্দরকে দেয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন। তবে কাস্টমস কর্মকর্তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও মানতে নারাজ সংশ্লিস্ট অনেকে। কারণ বন্দরের কেউ জানবেন না অথচ গাড়ী গাড়ী অবৈধ পণ্য বন্দর ঘুরে চলে যাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে তা কখনোই হতে পারে না। সবমিলিয়ে চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা জরুরি এমন দাবি অনেকের।

শেয়ার