উন্নয়ন হবে দেশজুড়ে: প্রধানমন্ত্রী

hasi
সমাজের কথা ডেস্ক॥ নতুন দশটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের যাত্রা শুরু হলো বাংলাদেশে; যার ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন করেন।
অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের জমির স্বল্পতা আছে। এই ছোট্ট একটা ভূখন্ডে ১৬ কোটি মানুষের বাস। তাদের খাদ্যের নিরাপত্তা দিতে হবে, ফসল উৎপাদন করতে হবে, সেই ফসলি জমি রক্ষা করতে হবে। পরিবেশ রক্ষা করতে হবে।”
পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন “এই কাজগুলি করতে হলে কী করা দরকার?
“আমাদের উদ্যোক্তারা বসে আছেন। শিল্প করতে চান। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যত্র-তত্র সেখানে-সেখানে শিল্প গড়ে তোলা যাবে না। সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী আমরা উন্নয়ন করব।”
২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে ‘সমন্বিত উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য’ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সরকার আশা করছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে; পণ্য রপ্তানি করা যাবে ৪০ বিলিয়ন ডলারের; যা বর্তমান রপ্তানির দ্বিগুণেরও বেশি।
রোববার উদ্বোধন করা ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে চারটি হবে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি); বাকিগুলো বেসরকারি উদ্যোগে।
এগুলো হলো- চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুন্সিগঞ্জে আব্দুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, নরসিংদীতে একে খান অর্থনৈতিক অঞ্চল, গাজীপুরে বে অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জে মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জে মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্থনৈতিক অঞ্চল , নারায়ণগঞ্জ আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাগেরহাটে মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, কক্সবাজারে সাবরাং ইকো ট্যুরিজম পার্ক এবং মৌলভীবাজারে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বেজা ইতোমধ্যে ৪৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন করেছে এবং আরও ১৩টি অঞ্চলের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা জানান, যেসব জমি ব্যবহৃত হচ্ছে না বা চর অথবা যেসব স্থানে বসতি কম- সেসব জায়গাকেই অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বেছে নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগলিক অবস্থানের কারণে সারা বিশ্বের কাছেই বাংলাদেশের অবস্থান এখন ‘গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে শিল্প উৎপাদনের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত জনবল।
ভৌগলিক অবস্থানের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল (বিবিআইএন) এর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ও যোগোযোগ ‘উন্মুক্ত’ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার (বিসিআইএম) এর লক্ষ্যও হচ্ছে অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে কাজ করা।
“এদিকে চারটা দেশ ওদিকে চারটা দেশ; যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আমরা স্থাপন করলাম, এতে করে শিল্প প্রতিষ্ঠা করা, বাণিজ্য বৃদ্ধি করা এবং আমাদের যে বিশাল বাজার সৃষ্টি হলো, যার ফলে এ দেশগুলোর মাঝে একটা বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।” রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে দেশের ভেতরেও ‘বিশাল বাজার’ সৃষ্টি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
“এই যে ১৬ কোটি মানুষ আছে, এখানে নিজের থেকেই একটা বিরাট বাজার গড়ে উঠছে। কারণ আমাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। মাথাপিছু আয় যত বাড়বে ক্রয়ক্ষমতাও তত বাড়বে। যত বেশি ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে বাজার তত বেশি সম্প্রসারিত হবে।”
দেশের যেসব অঞ্চলে যে পণ্য বেশি উৎপাদন হয় সেগুলো সে অঞ্চলেই প্রক্রিয়াজাত করতে শিল্প স্থাপনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
পায়রা সমুদ্র বন্দরের সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে পায়রায় নতুন বন্দর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেখানে আমরা একটি গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করতে যাচ্ছি। কক্সবাজারেও একটা সুযোগ আছে।

“পায়রা বন্দর থেকে উত্তরাঞ্চল এবং আসাম পর্যন্ত নদীপথে যাওয়া যায়। নদীগুলোর ড্রেজিং করতে হবে এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলে এই সুযোগগুলি আরও বৃদ্ধি পাবে।”
‘সেভাবেই বিভিন্ন পরিকল্পনা’ নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকটা শিল্পাঞ্চলে জলাধার থাকতে হবে, পরিবেশবান্ধব হতে হবে, সবুজ বৃক্ষরাজি এবং বর্জ্য শোধনাগার থাকতে হবে।

শেয়ার