সিরিয়ায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি

sirya

সমাজের কথা ডেস্ক॥ দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সাময়িক বিরতি শুরু হয়েছে। বিবিসি বলছে, মাইলফলক সৃষ্টিকারী এই যুদ্ধবিরতি শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়। বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর এক সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে।
২২ জিএমটি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সিরীয় সরকার ও রাশিয়ার প্রতি হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেন, “সমগ্র বিশ্ব বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।”
শুক্রবারও রুশ বিমান থেকে সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
জানা গেছে, সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টাফান দে মিস্তুরা ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি বড় পরিসরে অক্ষুণ্ন থাকলে ৭ মার্চ পুনরায় সিরিয়া বিষয়ক শান্তি আলোচনা শুরু হবে। বিবদমান পক্ষগুলো এই সমঝোতা মেনে চললে এটিই হবে দেশটিতে লড়াইরত সবপক্ষের মধ্যে প্রথম যুদ্ধবিরতি। সব পক্ষকে এই যুদ্ধবিরতির চুক্তি মেনে চলার আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দেওয়া এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ।
সমঝোতা অনুযায়ী সিরীয় সরকার ও বিদ্রোহী পক্ষগুলোর মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি হলেও সেখানে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত নুসরা ফ্রন্টকে রাখা হয়নি।
শুক্রবার নুসরা ফ্রন্ট তার সমর্থকদের সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে জোর হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে।
সিরিয়ায় বিবদমান প্রায় ১০০ বিদ্রোহী গোষ্ঠী যুদ্ধবিরতির এই চুক্তিকে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সিরিয়ার বিরোধী আমব্রেলা গ্রুপ এইচএনসি জানিয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী দীর্ঘ পাঁচ বছরের সিরীয় গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে শরণার্থীতে পরিণত হয়েছেন।

শেয়ার