যশোর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে

mamla
লাবুয়াল হক রিপন॥
যশোর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রায় ২০ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর বাইরে প্রতিদিনই বাড়ছে মামলার সংখ্যা। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে ছয় জন বিচারকের সংকট রয়েছে। এখন ৯ পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র তিনজন বিচারক। এই তিনজনকেই সামাল দিতে হচ্ছে বিচারকার্য।
আদালত সূত্র মতে, যশোর জেলার ৯টি থানার নিয়মিত মামলা ছাড়াও আদালতে আমলি, পিটিশন, বিদ্যুৎ, সিআর, জিআর, এসজিআর, মিসকেস, আপিল, কিশোর এবং দুদকের করাসহ ১৯ হাজারেরও বেশি মামলা রয়েছে। তাছাড়া প্রতিদিন সকল থানার ইলেভেন-সি, ৩৪, ৫৪ ধারাসহ নন জিআর মামলাও রয়েছে প্রায় আরো এক হাজার।
এসকল মামলা পরিচালনার জন্য যশোর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধীন রয়েছে নয়টি এজলাস। আর ওই সকল এজলাসের জন্য নয়জন বিচারক থাকার কথা রয়েছে। আদালত সূত্র মতে,
এসকল এজলাসে ৯জন বিচারকের মধ্যে একজন চিফ জুডিসিয়াল, একজন অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল, তিনজন সিনিয়র জুডিসিয়াল এবং চারজন জুডিসিয়াল বিচারক মামলা পরিচালনা করেন। কিন্তু একজন চিফ জুডিসিয়াল, একজন অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল এবং মাত্র একজন সিনিয়র জুডিসিয়াল বিচারক বর্তমানে এই ৯টি আদালতের মামলা পরিচালনা করছেন। ৯ পদের স্থলে যেখানে ছয় জনই সংকট রয়েছে। ফলে তিনজন বিচারককেই এসকল আদালতের মামলা পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্রটির দাবি, বিচারক সংকট থাকায় এসকল আদালতে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধছে মামলা জট। এতে দুরদূরান্ত থেকে আসা মামলার বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তি পাচ্ছেন। অনেকে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে এসে পরবর্তী তারিখ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।
আদালত সূত্র মতে, গত ৬ মাস ধরে আদালতে বিচারক সংকট রয়েছে। সর্বশেষ গত ৩০ জানুয়ারি আবু ইব্রাহিম নামে একজন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ জেলা থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। গত ৬ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত আইন সচিবের উপস্থিতিতে জাতীয় আইন সহায়ক কেন্দ্র’র (লিগ্যাল এইড) এক সেমিনারে বিষয়টি উত্থাপিত হয়। ওই সেমিনারের প্রধান অতিথি অতিরিক্ত আইন সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বিচারক সংকট সমাধানের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু এরপরও বিচারক সংকটের ব্যাপারে কোন সুফল পায়নি যশোরবাসী।
এব্যাপারে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বলেন, গত কয়েকদিন আগে বিচারক সংকটের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে এখন পর্যন্ত সমাধানের বিষয়ে জানানো হয়নি।
যশোর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম পিটু বলেন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক সংকট থাকার প্রভাব উচ্চ আদালতেও পড়ছে। ফলে অচিরেই এ আদালতে বিচারক সংকটের সমাধান না হলে ন্যায় বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে সাধারণ মানুষ।
এব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী আব্দুস শহীদ লাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিচারক সংকট থাকায় যশোর আদালতে শুধু মামলার জটই বাঁধেনি সাধারণ মানুষ ও হয়রানির শিকার হচ্ছে।

শেয়ার