এহসান এস’র অর্থ আত্মসাৎ সন্ধানে দুদকের নতুন দল

ehsan
সমাজের কথা ডেস্ক॥ আলোচিত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি ও যুবকের মত গ্রাহকদের জমাকৃত প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল এহসান গ্রুপ। তারা অল্প সময়ে বেশি লাভের আশা দিয়ে প্রায় ১২ হাজার গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে এই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। যা যাচাই শেষে অনুসন্ধানে নেমেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সেই বিপুল পরিমাণ আত্মসাৎকৃত অর্থের অনুসন্ধান করতে আগের অনুসন্ধানী দল পরিবর্তন করে আবারও নতুন করে এক দল অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা দুদক। গত বছরের প্রথমে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধান কাজে গতি বাড়ানোর জন্য পরিবর্তন করা হয়েছে আগের অনুসন্ধানী দলের। ইতোমধ্যে তারা অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
দুদকে আসা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসার নামে বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা জমা নেয় যশোরে প্রতিষ্ঠিত এহসান গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠান। এভাবে প্রায় ১২ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে এসব অর্থ পাচারের মাধ্যমে স্থানান্তরপূর্বক আত্মসাৎ করে পুরো গ্রুপটিই উধাও হয়ে যায়। এতে সঞ্চয় হারিয়ে পথে বসে প্রায় ১২ হাজার গ্রাহক। পরে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এহসান গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠান- এহসান সোসাইটি লিমিটেড, এহসান রিয়েল এস্টেট কোং লিমিটেড ও এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করে।
দুদক সূত্র জানায়, এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে ২০১৫ সালের শুরুতেই আত্মসাৎকৃত এই বিপুল পরিমাণ টাকার অনুসন্ধানে নামে দুদক। প্রথমে মো. মঞ্জুর মোর্শেদকে দলনেতা বানিয়ে সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন ও উপসহকারী পরিচালক মো. আমির হোসেনের সমন্বয়ে একটি অনুসন্ধানী দল গঠন করা হয়।
পরে এই অনুসন্ধানী দল পরিবর্তন করে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আরেকটি নতুন অনুসন্ধানী দল গঠন করে কমিশন। এই নতুন দলে উপপরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যাকে দলনেতা করে সহকারী পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও উপসহকরী পরিচালক মো. মাহবুবুল আলমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এই অনুসন্ধান দলের কার্যক্রম তদারকি করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দুদকের পরিচালক মো. নুর আহম্মদকে। একই সঙ্গে দুদক বিধিমালা-২০০৭ অনুসরণপূর্বক অভিযোগটির অনুসন্ধান সম্পন্ন করে যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দুদক কর্মকর্তা বাংলামেইলকে বলেন, ‘এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গত বছর নেয়া হয়েছিল। সেসময় বিষয়টি অনুসন্ধানে তিনজন দুদক কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি দলও গঠন করেছিল কমিশন। কিন্তু সেই দলের কিছু কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়ে যাওয়ায় এবং বিভিন্ন কারণে অনুসন্ধান কাজ একসময় গতি হারায়। তাই এবার বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি দ্রুততার সঙ্গে অনুসন্ধানের জন্য নতুন করে এই অনুসন্ধান দল গঠন করেছে কমিশন।

শেয়ার