লাশ মিললো কালীগঞ্জের বারোবাজারে॥ যশোরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী নজু খুন!

lash
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ম্যানসেল গ্রুপের সদস্য শরিফুল ইসলাম নজু নিখোঁজের দুই দিন পর মৃতদেহ সনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার পত্রপত্রিকায় ছাপা ও সাংবাদিকদের ল্যাপটবে অজ্ঞাত লাশের ছবি দেখে মৃতদেহ সনাক্ত করেন স্বজনরা। বুধবার ঝিনাইদহের বারবাজার ফুলবাড়ি নামকস্থান থেকে অজ্ঞাত হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নজু যশোর শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়ার চুন্নু মিয়ার ছেলে। চুন্নু মিয়া জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে একটা ফোন পেয়ে নজু বাড়ি থেকে বের হয়। যাওয়ার সময় বলে যায় ৫ মিনিটের মধ্যে চলে আসবে। পরে সে বাড়ি না ফেরায় অনেক খোঁজাখুজির পর জানতে পারেন, রেলস্টেশন এলাকার নিঝুম হোটেলের সামনে থেকে কে বা কারা তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে কোতোয়ালি থানায় নজুর মা-বাবা তাদের সন্তানের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গেলে পুলিশ নজুর বন্ধুদের নাম ও ফোন নম্বর চায়।
নজুর বোন রশিদা খাতুন জানিয়েছেন, নিঝুম হোটেলের মধ্যে থেকে তার ভাইকে নিয়ে যেয়ে খুন করা হয়েছে। সে সন্ত্রাসী বলে কি মানুষ না। তাকে এইভাবে হত্যা করতে হবে? তিনি কাঁন্না জাড়িত কন্ঠে বলেন, এক বছর আগে এই দিনে বেজপাড়া তালতলা মোড় এলাকায় ডলারকে সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে হত্যা করেছিল। যারা ডলারকে হত্যা করেছে তারাই তার ভাই নজুকে হত্যা করিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নজুর স্ত্রীর নাম চন্দনা। সে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, ভোর ৫ টার দিকে উপজেলার বারবাজার ফুলবাড়ি এলাকার যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে ওই যুবকের লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশের খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এদিকে, এ সংক্রান্ত একটি খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হয়। বিকৃত অজ্ঞাত লাশের ছবি ছাপা হয় খবরের কাগজে। এর সূত্র ধরে নিহতের স্বজনরা লাশের পরিচয় সনাক্ত করেন।
এ বিষয়ে যশোর কোতয়ালি থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন বলেন, উদ্ধার মরদেহ নজুর কি-না তা জানেন না। তিনি বলেন, নজুর স্বজনরা এসেছিলেন থানায়। আমরা তাদের কাছে তথ্য চেয়েছিলাম তারা দিতে পারেননি। তিনি স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেন। নজুর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা আছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে সংখ্যা বলতে পারেননি।

শেয়ার