ব্যাটিং ব্যথতার পরও লঙ্কানদের দুর্দান্ত জয়

lonk

সমাজের কথা ডেস্ক॥ মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হয় শ্রীলঙ্কা। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হলেও বোলারদের কল্যানে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লঙ্কানরা ১৪ রানের জয় তুলে নিয়েছে।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া ম্যাচে আমিরাতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয় লঙ্কানরা। আগে ব্যাট করে আট উইকেট হারিয়ে ১৩০ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। আইসিসির যেকোনো সদস্য দেশের বিপক্ষে লঙ্কানদের এটিই সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর। এর আগে ২০০৯ সালে লর্ডসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪৪ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম ৯ ওভারে যেখানে তারা ৬৮ রান তোলে, সেখানে শেষ ১১ ওভারে ৬১ রান তুলতেই হারায় ৮ উইকেট।
১৩০ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারানো আমিরাতের ১১৫ রানে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নামার সিদ্ধান্ত নেন আমিরাত অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ।
ওপেনিং জুটিতে ৯.১ ওভারে ৬৮ রান তোলেন দিনেশ চান্দিমাল (৩৯ বলে ৫০) ও তিলেকারাতেœ দিলশান (২৮ বলে ২৭)। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ব্যাটিংয়ের উদ্বোধন করতে এসেই সফল হলেন চান্দিমাল। এরপর আর কেউই ব্যাট হাতে আমিরাত বোলারদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি। ওয়ান ডাউনে নামা মিলিন্ডা সিরিবর্ধনে ৬ ও দাসুন শানাকা ৫ রান করে আউট হন।
দলের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারেননি। ৯ বল খেলে মাত্র ৮ রান করেই তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরেন। শিহান জয়সুরিয়া ও চামারা কাপুগেদারা দু’জনই ১০ রান করে বিদায় নেন। আর ইনিংসের শেষ বলে মোহাম্মদ শাহজাদের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন নুয়ান কুলাসেকারা (৭)।
লঙ্কানদের টপঅর্ডারের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকেই সাঝঘরে পাঠান আমিরাত দলপতি আমজাদ জাবেদ। দু’টি করে উইকেট নেন মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ নাভিদ ও শাহজাদ। ম্যাথিউসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন অফস্পিনার রোহান মুস্তফা।
১৩০ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় আমিরাত। ইনিংসের প্রথম ওভারেই দুই উইকেট হারায় তারা। ওপেনার রোহাম মুস্তফাকে ইনিংসের প্রথম বলেই এলবির ফাঁদে ফেলেন লঙ্কান দলপতি লাসিথ মালিঙ্গা। ওভারের শেষ বলে মালিঙ্গা বোল্ড করেন তিন নম্বরে নামা মোহাম্মদ শাহজাদকে। গত বছরের নভেম্বরে শেষবারের মতো বল করেন মালিঙ্গা। ফিরলেন বেশ রাজকীয় স্টাইলে।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে লঙ্কান পেসার কুলাসেকারা ফিরিয়ে দেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ কলিমকে (৭)। চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে কলিম সাজঘরে ফিরলে দুই বল বাদেই মুহাম্মদ উসমানকেও (৬) ফেরান কুলাসেকারা।
দলীয় ১৬ রানেই টপঅর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে হারায় বাছাইপর্বে টানা তিন ম্যাচ জিতে চমক জাগিয়ে মূলপর্বে আসা আমিরাত। সেখান থেকে স্কোরবোর্ডে আরও ২২ রান যোগ করেন সাইমান আনোয়ার ও স্বপ্নীল পাতিল। তবে, ইনিংসের অষ্টম ওভারে সাইমানকে উইকেটের পেছনে চান্দিমালের গ্লাভসবন্দি করেন রঙ্গনা হেরাথ। বিদায়ের আগে ১৫ বলে ১৩ রান করেন সাইমান।
দশম ওভারের পঞ্চম বলে নিজের দ্বিতীয় আর দলের হয়ে ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন হেরাথ। সাকলাইন হায়দার উইকেটের পেছনে চান্দিমালের হাতে ধরা পড়েন। ১০ ওভার শেষে আমিরাতের আসে ৪৭ রান।
দলীয় ৪৭ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে আমিরাত যখন তাদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ (৭৩) পেরুতে পারবে কি না ভাবছে তখন দলকে আরও ৩৮ রান পাইয়ে দেন আমজাদ জাভেদ-স্বপ্নীল পাতিল। ইনিংসের ১৭তম ওভারে মালিঙ্গা তার তৃতীয় উইকেট তুলে নেন ৩৬ বলে তিনটি বাউন্ডারি আর দুটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৩৭ রান করা পাতিলকে।
পরের ওভারে কুলাসেকারা তার তৃতীয় উইকেট তুলে নিতে ফেরান ১৩ রান করা আমজাদ জাভেদকে। ১৯তম ওভারে মালিঙ্গা নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ নাভিদকে (১০) ফিরিয়ে।
শ্রীলঙ্কার হয়ে ৪ ওভার বল করে ২৬ রান খরচায় চারটি উইকেট তুলে নেন মালিঙ্গা। ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে তিনটি উেইকেট পান কুলাসেকারা। রঙ্গনা হেরাথ ৪ ওভারে ২২ রানের বিনিময়ে নেন দুটি উইকেট।

শেয়ার