নড়াইলের নূর মোহাম্মদ নগরে বিশ্রামাগার নির্মাণের দাবি ॥ অসুস্থ স্ত্রীর চোখের চিকিংসা করানো জরুরি

nur moham
নড়াইল প্রতিনিধি॥ মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণের সাহসী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের নামে নামকরণ নুর মোহাম্মদনগরে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় উন্নয়ন কর্মকান্ড পাল্টে দিয়েছে এলাকার চিত্র। গ্রামটিকে ২০০৮ সালে ‘মহিষখোলা’র নাম পরিবর্তন করে ‘নূর মোহাম্মদ নগর’ করা হয়। এ গ্রামে নির্মাণ করা হয়েছে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। সেই থেকে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে নূর মোহাম্মদ নগরে। তবে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ব্যবহৃত স্মৃতি বিজড়িত বাইসাইকেলটি জাদুঘরে সংরক্ষণের দাবি তোলা হলেও এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন সুত্রের দাবি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যশোর থেকে এই সাইকেলটি চালিয়ে নূর মোহাম্মদ একবার বাড়িতে দেখা করতে এসেছিলেন। তিনি যশোর ফিরে যাওয়ার সময় সাইকেলটি রেখে যান তার এক আত্মীয়ের কাছে। সাইকেলটি উদ্ধার করে জাদুঘরে সংরক্ষনের জন্য সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন। এদিকে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন নূর মোহাম্মদের অসুস্থ স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেসার। তিনি বিদেশ যেতে চান কিন্তু সাড়া মেলেনি কোন মহল থেকেই।
২০০৮ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের পর বদলে গেছে নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতিধন্য নূর মোহাম্মদ নগরের চালচিত্র। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজ। এখানে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়ে গর্বিত শিক্ষার্থীরা। তবে বিদ্যালয়টি এমপিওভূক্ত হলেও কলেজটি এখনো এমপিওভূক্ত হয়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্ত্রী ফজিলাতুন নেসা প্রায় এক বছর ধরে তার বাম চোখে দেখতে পান না। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। তবে সাড়া না মেলায় হতাশায় ভুগছেন তিনি। স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন নূর মোহাম্মদের বসতভিটায় স্মৃতিস্তম্ভের পাশে একটি বিশ্রামাগার নির্মাণের। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নড়াইল জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাড. সুবাস চন্দ্র বোস জানান, নূর মোহাম্মদের স্মৃতি রক্ষার্থে তার বাড়িতে বিশ্রামাগার নির্মাণসহ আরো উন্নয়ন করা হবে। এদিকে আজ নূর মোহাম্মদের জন্মদিন উপলক্ষে দিনব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে মৃতুবরণ করেন নূর মোহাম্মদ। যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেছা, মতান্তরে জেন্নাতা খানম। তিনি বাল্যকালে বাবা ও মাকে হারান। পড়েছেন সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। তবে, মতান্তর রয়েছে। নূর মোহাম্মদ শেখের স্ত্রী ফজিলাতুন নেসা, ছেলে গোলাম মোস্তফা কামাল ও তিন মেয়ে নড়াইলসহ যশোরে বসবাস করেন।

শেয়ার