ধর্মগুরু হত্যার ‘হোতা’সহ ৩ জঙ্গি গ্রেপ্তার

gur
সমাজের কথা ডেস্ক॥ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে হিন্দু ধর্মগুরুকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সন্দেহভাজন তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; এদের একজনকে বলা হচ্ছে ওই হত্যাকাণ্ডের ‘হোতা’।
পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হুমায়ুন কবির শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান। উদ্ধার করা অস্ত্র প্রদর্শন করা হলেও গ্রেপ্তারদের নাম তিনি প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার দিন গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে বৃহস্পতিবার রাতে পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয় বলে জানান তিনি।

ডিআইজি বলেন, “ঘটনায় সরাসরি জড়িত পাঁচ জনের মধ্যে তিন জনই এ বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হলো। এরা জেএমবির স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতা। তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের হোতাও রয়েছে। বাকি দুই জনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।”

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরাঞ্চলে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার সবকটির সঙ্গে জেএমবির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

“গ্রেপ্তারদের মধ্যে পুরোহিতকে জবাইকারী মূল অপরাধী, অপারেশনের আগে ও পরে যার বাসায় অস্ত্র রাখা হয়েছিল তাকে এবং হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ঘটনাস্থলসহ আশপাশে নজরদারী করা ব্যক্তি গ্রেপ্তারের তালিকায় আছে।”

গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, তিনটি হাতবোমা, তিনটি ছুরি, পাঁচটি গুলি এবং যে বাইসাইকেলে নজরদারি করা হয়েছে সেটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
গ্রেপ্তার তিনজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছে বলেও দাবি করেন ডিআইজি হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, “আইএস জঙ্গি নয়, জেএমবি সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।”

ডিআইজি বলেন, মূলত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খরা বাহিনীর তৎপরতা ও জনগণের সহাতায় মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ‘ঘটনার রহস্য উদঘাটনে’ পুলিশ ‘সফল’ হয়েছে।

এ সময় পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীন মোহাম্মদ ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. কফিলউদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার