এসএসসির গণিত প্রশ্নে ভুল ছিল ১৪টি! ॥জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ssc
দেবু মল্লিক॥
চলতি এসএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডে সাধারণ গণিতের প্রশ্নপত্রের অবজেকটিভ অংশে অন্তত ১৪টি ভুল ধরা পড়েছে। ভুলেভরা প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন ঘটনা পরীক্ষার ফলাফলে যেমন প্রভাব পড়বে, তেমনি প্রভাব পড়বে শিক্ষার মনের উপর। শিক্ষার মানের স্বার্থে এমন ভুলের কারণ অনুসন্ধান এবং প্রতিকারের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দাবি তুলেছেন শিক্ষক অভিভাবকসহ যশোরের সচেতন মহল। একই দাবিতে বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলন করে সচেতন ছাত্র ও অভিভাবক সমাজ নামে একটি সংগঠন।
যশোর জিলা স্কুলের গণিতের শিক্ষক শফিয়ার রহমান ও শহরের এমএসটিপি বালিকা বিদ্যালয় এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক গোবিন্দ চন্দ্র মল্লিক জানান, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সাধারণ গণিত পরীক্ষায় অবজেকটিভে ১৪টি প্রশ্নে সরাসরি ভুল রয়েছে। এরমধ্যে ক সেটের ২ নম্বর প্রশ্ন ছিল ‘রুট ৫ এর চার দশমিক স্থান পর্যন্ত আসন্ন মান কোনটি?’ সঠিক উত্তর হবে ২.২৩৬১। কিন্তু প্রশ্নের নিচে দেওয়া চারটি বিকল্পের মধ্যে এই সঠিক উত্তরটি নেই। একই রকম ভুল হয়েছে ৩ নম্বর প্রশ্নে। সেখানেও সঠিক উত্তরটি দেওয়া নেই। ৬ নম্বর প্রশ্নের মধ্যেই ভুল রয়েছে। নিচেই দেওয়া উত্তর থেকে সঠিকটি বেছে নিতে হলে প্রশ্নের ‘আর’ এর স্থানে ‘এন’ হতে হবে। অবজেকটিভের ১২ ও ১৩ নম্বর প্রশ্নে একটি ত্রিভুজের চিত্র দেওয়া হয়েছে। এই চিত্রের উপর ভিত্তি করে সঠিক উত্তরটি বের করতে হবে। কিন্তু ত্রিভুজের লম্বের মান দেওয়া হলেও ভূমির কোন মান দেওয়া নেই। কিন্তু যে প্রশ্ন করা হয়েছে তার উত্তর সঠিক দিতে হলে ভূমির মান থাকতে হবে। ২৪ ও ২৫ নম্বর প্রশ্নের জন্য একটি চিত্র দেওয়া হয়েছে। এই দুই প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য চিত্রটির ত্রিভুজের অতিভূজের উপরে অর্ধবৃত্ত থাকতে হবে। কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। এছাড়া সঠিক উত্তর দেওয়া নেই ২৮ নম্বর পশ্নের। এই প্রশ্নটির উত্তর রোমান সংখ্যার এক হলেও, উত্তরে তা নেই। ৩০ নম্বর প্রশ্নে ক্ষেত্র কত জানতে চাওয়া হলেও উত্তরে ‘একক’ শব্দ উল্লেখ নেই। ৩৪ নম্বর প্রশ্নে সঠিক উত্তর দেওয়া রয়েছে তিনটি। ৩৬ নম্বর প্রশ্নে ডিগ্রি উল্লেখ না থাকলেও উত্তরে ডিগ্রি উল্লেখ রয়েছে। তাই প্রশ্নটিই সঠিক নয়। ৩৮ ও ৩৯ নম্বর প্রশ্নের জন্য দেওয়া চিত্রে ভুল রয়েছে। চিত্রে ব্যাসার্ধকে সম্পূর্ণভাবে দেখানো হয়নি। আর ৪০ নম্বর প্রশ্নের সঠিক উত্তর হবে রোমান সংখ্যার সবগুলো। কিন্তু উত্তরে সবগুলো দেওয়া নেই। যশোর জিলা স্কুলের গণিতের শিক্ষক শফিয়ার রহমান আরো জানান, এর বাইরে ‘ক’ সেটের ২৬ নম্বর প্রশ্নটি সঠিক হলেও নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে নেই। আর ২৯ নম্বর প্রশ্নটি তৈরিতে নীতিমালা মানা হয়নি।
এদিকে, এই ভুল প্রশ্নের কারণে যাতে পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই দাবি তুলেছে সচেতন ছাত্র ও অভিভাবক সমাজ নামে একটি সংগঠন। গতকাল তারা প্রেসক্লাব যশোরে এ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ও বিএএফ শাহীন স্কুল এ- কলেজের শিক্ষক তাপস কুমার বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক মাস্উদ জামান, মির্জা রিয়াজ, মুশফিক আহমেদ নাইন, নাজমুল হুদা, জিয়াউল হক প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে জিয়াউল হক নামে এক অভিভাবক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
এনিয়ে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বৃহস্পতিবার রাতে দৈনিক সমাজের কথাকে জানান, বিভিন্ন কেন্দ্র সচিবসহ শিক্ষকরা ভুল প্রশ্নের কথা জানিয়েছেন। কেউ ছয়টি, কেউ ১০টি কেউ আবার ১৩টি প্রশ্নে ভুল রয়েছে বলে দাবি করছেন। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ গণিতে প্রধান পরীক্ষকদের সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘যেহেতু পরীক্ষার্থীরা ভুল করেনি। তাই খাতা মূল্যায়নের সময় তারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

শেয়ার