এবার শীতে নিপা ভাইরাসমুক্ত ছিল বাংলাদেশ

badur
সমাজের কথা ডেস্ক॥ সদ্য বিদায়ী শীত মওসুমে বাংলাদেশে ভয়ঙ্কর নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে সরকারের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি)।
শুক্রবার গাজীপুরের সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে সংক্রামক ব্যধি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক কর্মশালায় এতথ্য জানান সিডিসির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান।

তিনি বলেন, শীত শুরু হওয়ার আগেই মানুষকে সচেতন করতে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।

“আমার মনে হয়, আমাদের কর্মসূচি সফল হয়েছে। মানুষ খেজুরের কাঁচা রস পান করেনি।”

স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিবেদকদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) ও সিডিসির যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালা হয়।

সাধারণত শীতকালে বাদুরের মাধ্যমে খেঁজুরের রস থেকে মানুষে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেও এ ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে।

ভাইরাস সংক্রমণের প্রায় আটদিন পর রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- জ্বর, প্রলাপ বকা এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

অজ্ঞাত রোগ হিসেবে ২০০১ সালে দেশে প্রথম এই ভাইরাসের সংক্রমণ নজরে আসে। তিন বছর পরে ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরীক্ষার মাধ্যমে একে নিপা ভাইরাস বলে সনাক্ত করা হয়।
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে সকালবেলা খেঁজুরের বা তালের কাঁচা রস খাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যেখানে গাছ থেকে রস সংগ্রহে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না।

ইনফ্রারেড ক্যামেরা ব্যবহার করে এ বিষয়ে একটি গবেষণা করেছে আইসিডিডিআরবি। সংস্থাটি বলছে, বাদুরের খাওয়া ফল রসের হাঁড়িতে পড়ে গিয়ে কিংবা রস পান করার সময় বাদুরের লালায় থাকা ভাইরাস রসে মিশে যায়।

এছাড়াও রসের পাত্রে বাদুর মলমুত্র ত্যাগ করলে তার মাধ্যমেও ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।

নিপা ভাইরাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নষ্ট হয়ে যায়। তাই সংগৃহীত রস জ্বাল দিয়ে পান করা হলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে না।

তবে একবার আক্রান্ত হলে কোনো প্রতিকার নেই। এ পর্যন্ত নিপা ভাইরাস যতজনের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছিল, তার ৮০ শতাংশেরই মৃত্যু হয়েছে।

শেয়ার