বড় হার দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের

spo

সমাজের কথা ডেস্ক॥ এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে ভারতের সামনে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। বোলাররা উইকেট আর কন্ডিশন ঠিকমতো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ব্যাটসম্যানরা জ্বলে উঠতে না পারায় ৪৫ রানে হেরে গেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
নিজের শেষ ওভারটি করতে এসে আবার আঘাত হানেন আশিষ নেহরা। পর পর দুই বলে মাহমুদউল্লাহ ও মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ফিরিয়ে দেন তিনি। সীমানায় রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহ। পয়েন্টে রবিন্দ্র জাদেজার হাতে ধরা পড়েন মাশরাফি।
তৃতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। স্লগ করতে গিয়ে বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুন; আশিষ নেহরার বল আঘাত হানে অফ স্টাম্পে।
পরের ওভারে ফিরে যান অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকারও। জাসপ্রিত বুমরাহর বলে মহেন্দ্র সিং ধোনির গ্লাভসবন্দি হন তিনি।
ইমরুল কায়েসকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এই অফ স্পিনারের বল সুইপ করতে গিয়ে যুবরাজ সিংকে সহজ ক্যাচ দেন ইমরুল।
রান আউট হয়ে ফিরে যান বাংলাদেশের অন্যতম ব্যাটিং ভরসা সাকিব আল হাসান। রবিন্দ্র জাদেজার বল মিড উইকেটে পাঠিয়ে এক রান নিতে চেয়েছিলেন তিনি। শুরুতে একটু এগিয়েছিলেন সাব্বির রহমান, তবে শেষ পর্যন্ত সাকিবকে ফিরিয়ে দেন তিনি। অনেকটা এগিয়ে যাওয়া সাকিব সময় মতো ফিরতে পারেননি। বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়িয়ে ফিরে যান সাব্বির। জাসপ্রিত বুমরাহর বল উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন তিনি। শর্ট বল তার ব্যাটের কানায় লেগে অনেক ওপরে উঠে যায়। ধোনি বল গ্লাভসবন্দি করতে কোনো ভুল করেননি।
গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের মতো আবারও বাংলাদেশকে ভোগালেন রোহিত শর্মা। সবুজ উইকেটে ফায়দা পুরোপুরি তুলতে পারল না বাংলাদেশের বোলাররা। মাশরাফিদের সামনে তাই লক্ষ্যটা কঠিন।

বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান করে ভারত। গত মার্চে মেলবোর্নে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার-ফাইনালে ১৩৭ রানের ইনিংস খেলা রোহিত এবার করেছেন ৫৫ বলে ৮৩!
ইনিংসের একাদশ ওভারে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান রোহিত। রান ছিল তখন তার ২৮ বলে ২১। পরের ২৭ বলে তিনি করেছেন ৬২ রান!
উইকেট-কন্ডিশন পেস বোলিংয়ের জন্য ছিল আদর্শ। ঢাকায় সকাল থেকেই ছিল মেঘ-রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি। টসের সময়ও আকাশ ছিল মেঘলা, বাতাস ভেজা; উইকেট ঘাসে ভরা। টস জিতে বোলিং বেছে নিতে সময় নেননি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। বল হাতে শুরুটাও ছিল কাঙ্ক্ষিত, কিন্তু ধরে রাখা যায়নি সেই ধারা।
বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন আল আমিন হোসেন। ভেতরে ঢোকা বল শিখর ধাওয়ানের (২) ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে উড়িয়ে দেয় স্টাম্প।
উইকেটে গিয়েই ব্যাটের কানায় লেগে চার পেয়েছিলেন বিরাট কোহলি। পরের ওভারে বেশ কবার ব্যর্থ হয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমানকে তেড়েফুড়ে মারতে গিয়ে। শেষ পর্য্ত ভারতের সেরা ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মাশরাফির একটু বাড়তি লাফানো বল তুলে মারতে গিয়ে কোহলি (৮) ক্যাচ দিয়েছেন মিড অফে।
বাঁহাতি সুরেশ রায়নার জন্য অফ স্পিনার মাহমুদউল্লাহকে সাকিবের আগেই বোলিংয়ে আনেন মাশরাফি। কাজেও লেগে যায় মাশরাফির ভাবনা। উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আসা রায়নাকে খানিকটা ভেতরে ঢোকা ফ্লাইটেড বলে বিভ্রান্ত করে বোল্ড করেন মাহমুদউল্লাহ (১৩)।
৪২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন কম্পমান ভারত। নড়বড়ে সেই ভিত শক্ত হয় রোহিত-যুবরাজের জুটিতে। যুবরাজের অবদান ছিল তাতে সামান্যই, শুধু সঙ্গ দিয়ে গেছেন। আরেক প্রান্তে দারুণ সব শটের পসরা মেলে ধরেছিলেন রোহিত।
যদিও ক্যাচ দিয়েও রোহিত পার পেয়েছে ঝড় তোলার আগেই। তাসকিনের বলে পয়েন্টে রোহিতের ক্যাচ ছেড়েছেন সাকিব। জীবন পেয়ে ব্যাটের গতিই পাল্টে যায় তার। পরের তিন বলেই চার-ছক্কা-চার!

যুবরাজকে (১৫) ফিরিয়ে ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন সাকিব। কিন্তু রোহিত ব্যাট চালিয়ে যেতে থাকেন। আর দারুণ সব শটে বাংলাদেশের বোলিং এলোমেলো করে দেন হার্দিক পান্ডিয়া। মুস্তাফিজের এক ওভারে দুজন নেন ২১ রান। মাত্র ২৭ বলে ৬১ রানের জুটি গড়েন দুজন।
দুজনই আউট হয়েছেন আল আমিনের করা ইনিংসের শেষ ওভারে। সৌম্য সরকারের দারুণ ক্যাচে ফিরেছেন রোহিত। ১৮ বলে ৩১ করে লং অনে ক্যাচ দেন পান্ডিয়া। শেষ বলের ছক্কায় ইনিংস শেষ করে ধোনি। শুরুর সব অস্বস্তি কাটিয়ে ভারত তখন স্বস্তির স্কোরে!
বাংলাদেশের আল আমিন নিয়েছেন ৩ উইকেট; মাশরাফি, মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব একটি করে।

শেয়ার